[email protected] শুক্রবার, ৯ জানুয়ারি ২০২৬
২৬ পৌষ ১৪৩২

ভেনেজুয়েলার পর ট্রাম্পের নজরে আরও পাঁচ দেশ

প্রতিদিনের বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ৬ জানুয়ারি ২০২৬ ৭:০৬ পিএম

ভেনেজুয়েলার পর যুক্তরাষ্ট্রের নজরে আরও কয়েকটি দেশ


মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদে এসে পররাষ্ট্রনীতিতে আগ্রাসী অবস্থান নিয়েছেন। ভেনেজুয়েলায় আকস্মিক এক অভিযানের মাধ্যমে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করার ঘটনাকে তিনি নিজের কঠোর অবস্থানের বাস্তব উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরছেন।
এই অভিযানের ব্যাখ্যায় ট্রাম্প ১৮২৩ সালের মনরো ডকট্রিনের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে পশ্চিম গোলার্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বজায় রাখার অঙ্গীকার নতুন করে উচ্চারণ করেন, যাকে তিনি “ডনরো ডকট্রিন” নামে উল্লেখ করছেন। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন—যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাববলয়ের আরও কয়েকটি দেশ এখন ওয়াশিংটনের কড়া নজরদারিতে রয়েছে।

গ্রিনল্যান্ড


গ্রিনল্যান্ডে ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা থাকলেও ট্রাম্প পুরো দ্বীপটিকেই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন। তার দাবি, রাশিয়া ও চীনের তৎপরতা বেড়ে যাওয়ায় জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে গ্রিনল্যান্ড অপরিহার্য।
ডেনমার্কের অধিভুক্ত এই দ্বীপটি বিরল খনিজে সমৃদ্ধ, যা আধুনিক প্রযুক্তি ও সামরিক শিল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্ক—দুই পক্ষই স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার ধারণা সমর্থন করে না এবং যেকোনো আলোচনা আন্তর্জাতিক আইনের মধ্যেই হতে হবে।

কলম্বিয়া


ভেনেজুয়েলা অভিযানের পরপরই ট্রাম্প কলম্বিয়ার বামপন্থি প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোর বিরুদ্ধে কড়া ভাষায় সতর্কবার্তা দেন। প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ এই দেশটি দীর্ঘদিন ধরে মাদক উৎপাদন ও পাচারের জন্য আলোচিত।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, কলম্বিয়া সরকার মাদক কার্টেল দমনে যথেষ্ট কার্যকর নয়। ট্রাম্প এমনকি দেশটিতে সম্ভাব্য মার্কিন অভিযানের ইঙ্গিতও দেন, যদিও ঐতিহাসিকভাবে কলম্বিয়া ছিল যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র।

ইরান


ইরানে চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন—নিরাপত্তা বাহিনীর সহিংসতা বাড়লে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে।
যদিও ইরান মনরো ডকট্রিনের আওতার বাইরে, তবুও পারমাণবিক কর্মসূচি ও ইসরায়েলের সঙ্গে উত্তেজনার কারণে দেশটি ওয়াশিংটনের প্রধান উদ্বেগের তালিকায় রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্প ও ইসরায়েলি নেতৃত্বের আলোচনায় ইরান ইস্যু গুরুত্বপূর্ণ স্থান পেয়েছে।

মেক্সিকো


অবৈধ অভিবাসন ও মাদক চোরাচালান নিয়ে মেক্সিকো বরাবরই ট্রাম্পের কঠোর সমালোচনার মুখে। দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুতেই তিনি মেক্সিকো উপসাগরের নাম পরিবর্তনের নির্দেশ দেন, যা প্রতীকী হলেও রাজনৈতিক বার্তা বহন করে।
তার দাবি, মেক্সিকো কার্টেলগুলো নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হচ্ছে। তবে মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপ তারা মেনে নেবেন না।
 

কিউবা


দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় থাকা কিউবাকে ট্রাম্প এখন দুর্বল অবস্থায় দেখছেন। তার মতে, ভেনেজুয়েলা থেকে তেল সরবরাহ কমে যাওয়ায় কিউবার অর্থনীতি চাপে পড়েছে এবং আলাদা করে সামরিক পদক্ষেপের প্রয়োজন নাও হতে পারে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওও ইঙ্গিত দিয়েছেন—বর্তমান পরিস্থিতিতে কিউবার সরকারকে ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত হওয়া উচিত।

এসআর

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর