[email protected] শনিবার, ১০ জানুয়ারি ২০২৬
২৬ পৌষ ১৪৩২

হাদির ঘাতকদের ভারতে প্রবেশের দাবি নাকচ করলো মেঘালয় পুলিশ

প্রতিদিনের বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ ৬:২৭ পিএম

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে জড়িত দুই

সন্দেহভাজন সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে পালিয়েছে—বাংলাদেশ পুলিশের এমন দাবিকে সরাসরি অস্বীকার করেছে ভারতের মেঘালয় রাজ্য পুলিশ ও সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা যায়, বাংলাদেশ পুলিশের পক্ষ থেকে ফয়সাল করিম মাসুদ ও আলমগীর শেখ নামের দুই অভিযুক্ত ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সীমান্ত দিয়ে মেঘালয়ে প্রবেশ করেছে বলে যে দাবি করা হয়েছে, মেঘালয় পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা তা ভিত্তিহীন বলে মন্তব্য করেছেন।
মেঘালয় পুলিশের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, বাংলাদেশ পুলিশের সঙ্গে এ বিষয়ে তাদের কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগ হয়নি। অভিযুক্তদের কাউকে গারো পাহাড় বা মেঘালয়ের অন্য কোনো এলাকায় শনাক্ত বা গ্রেপ্তার করা হয়নি বলেও তিনি স্পষ্ট করেন। তিনি বাংলাদেশ পুলিশের বক্তব্যকে “অসত্য ও বিভ্রান্তিকর” হিসেবে উল্লেখ করেন।
এর আগে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) দাবি করেছিলেন, হত্যাকাণ্ডের পরপরই অভিযুক্তরা ঢাকা থেকে বিভিন্ন পথে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সীমান্তে পৌঁছে ভারতে পালিয়ে যায়। তিনি তাদের যাতায়াতের একটি বিস্তারিত রুট এবং কয়েকজন সহযোগীর নামও উল্লেখ করেন।
তবে মেঘালয় পুলিশ জানায়, অভিযুক্তদের সীমান্ত পারাপার, স্থানীয় কোনো ব্যক্তি বা ট্যাক্সিচালকের সম্পৃক্ততা—এসব বিষয়ে তাদের কাছে কোনো গোয়েন্দা তথ্য, মাঠপর্যায়ের যাচাই কিংবা কার্যকর প্রমাণ নেই। সংশ্লিষ্ট নামগুলোও রাজ্যের কোথাও শনাক্ত করা যায়নি বলে তারা জানিয়েছে।
বাংলাদেশ পুলিশের ওই দাবির সঙ্গে একমত নয় বলে জানিয়েছে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফও। বিএসএফের মেঘালয় ফ্রন্টিয়ারের মহাপরিদর্শক বলেন, হালুয়াঘাট সেক্টর দিয়ে আন্তর্জাতিক সীমান্ত অতিক্রম করে অভিযুক্তদের ভারতে প্রবেশের কোনো প্রমাণ তাদের কাছে নেই। এ ধরনের কোনো ঘটনার রিপোর্টও বিএসএফ পায়নি।
তিনি আরও বলেন, যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো তথ্যের ভিত্তিতে বিএসএফ পদক্ষেপ নেয় না। সতর্কতামূলকভাবে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং মেঘালয় পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে।
মেঘালয় পুলিশ ও বিএসএফ উভয়ই জানিয়েছে, তারা বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সহযোগিতায় আগ্রহী। তবে তা অবশ্যই প্রতিষ্ঠিত আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং যাচাইকৃত তথ্যের ভিত্তিতে হতে হবে।

এসআর

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর