প্রতিদিন অন্তত আধ ঘণ্টা হাঁটা হৃদযন্ত্রের জন্য এক কার্যকর
প্রাকৃতিক ‘ওষুধ’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। নিয়মিত হাঁটলে শরীরে নানা ইতিবাচক শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তন ঘটে—মেজাজ ভালো হয়, স্ট্রেস কমে, রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং সার্বিকভাবে হার্ট আরও সুস্থ থাকে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে এবং হৃদস্পন্দনের অনিয়ম মোকাবিলায় অত্যন্ত কার্যকর।
বিশ্বজুড়ে হৃদরোগীর সংখ্যা বেড়ে চলেছে। মার্কিন সিডিসির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি পাঁচটি মৃত্যুর মধ্যে একটি ঘটে হৃদরোগে। ঝুঁকির কারণ নানা হলেও, অনেকে যে বিষয়টি অবহেলা করেন তা হলো—শারীরিক কার্যকলাপের শক্তি। সামান্য হাঁটাই পারে হৃদযন্ত্রকে সুরক্ষিত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে।
হাঁটার ফলে শরীরে ধাপে ধাপে নানা পরিবর্তন দেখা যায়। ক্লান্তি ধীরে ধীরে দূর হয়ে আসে, মন শান্ত হয় এবং মানসিক চাপ কমে যায়। নিয়মিত হাঁটলে এটি এক ধরনের থেরাপির মতো কাজ করে।
আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন হাঁটা এবং মাঝারি থেকে উচ্চমাত্রার শারীরিক পরিশ্রম—দু’টোই মেনোপজ-পরবর্তী নারীদের হৃদরোগে মৃত্যুঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।
অন্যদিকে হার্ট জার্নালের আরেক গবেষণায় উঠে এসেছে, দ্রুতগতিতে হাঁটা এবং সেই গতি ধরে রাখার সময় যত বাড়ে, অ্যাট্রিয়াল ফাইব্রিলেশন, টাকাইকার্ডিয়া বা ব্র্যাডিকার্ডিয়ার মতো হৃদস্পন্দনের সমস্যার ঝুঁকি তত কমে।
শরীর, মন ও মানসিক প্রশান্তির জন্য হাঁটা এক অনন্য উপকারী অনুশীলন। মাত্র এক মিনিট হাঁটলে রক্তসঞ্চালন বাড়ে; পাঁচ মিনিটে মেজাজ উন্নত হতে শুরু করে; দশ মিনিটে কর্টিসল কমে গিয়ে চাপ হ্রাস পায়। ১৫ মিনিট হাঁটার পর রক্তে শর্করা স্থিতিশীল হয় এবং ৩০ মিনিটে শরীর চর্বি পোড়ানোর দিকে ঝুঁকে পড়ে, যা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।
নিয়মিত হাঁটা মানসিক সুস্থতাও বাড়ায়। অতিরিক্ত ভাবনা কমে, ডোপামিনের মাত্রা বাড়ে এবং মন ভালো হয়। সাইকোলজি অফ স্পোর্ট অ্যান্ড এক্সারসাইজ–এ প্রকাশিত টেক্সাস ইউনিভার্সিটি অফ আর্লিংটনের একটি গবেষণায় বলা হয়েছে—৩০ মিনিট বসে থাকার পর হালকা হাঁটার মতো কার্যকলাপ করলে শক্তি ও মানসিক প্রশান্তি দুটোই বাড়ে।
সুতরাং হৃদযন্ত্রকে সুস্থ রাখতে ব্যয়বহুল জিম, দামি সাপ্লিমেন্ট বা জটিল ব্যায়াম নয়—প্রতিদিন মাত্র আধ ঘণ্টার হাঁটাই যথেষ্ট।
এসআর
মন্তব্য করুন: