জাতীয় সংসদে সম্প্রতি পাস হওয়া ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) বিল ২০২৬’ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দেশের শীর্ষস্থানীয় তামাক বিরোধী ও জনস্বাস্থ্য রক্ষা বিষয়ক সংগঠনগুলো। ১১ এপ্রিল ২০২৬
তারিখে এক যৌথ বার্তায় বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট (বাটা), বাংলাদেশ ক্যান্সার সোসাইটিসহ ১৬টি সংগঠন ই-সিগারেট ও নিকোটিন পাউচ পুনরায় নিষিদ্ধ করে দ্রুত আইন প্রণয়নের জোর দাবি জানিয়েছে।
নিয়ন্ত্রণহীন বাজার: নতুন সংশোধিত আইনে ই-সিগারেট, ভ্যাপ এবং নিকোটিন পাউচের মতো ক্ষতিকর পণ্য নিষিদ্ধের বিধান বাতিল করা হয়েছে। এর ফলে এসব পণ্য বাজারে উন্মুক্ত হয়ে পড়বে, যা তরুণ প্রজন্মের জন্য মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করবে।
আদালতের রায়ের পরিপন্থী: সংগঠনগুলোর মতে, এই সিদ্ধান্ত তামাক ব্যবহার হ্রাসে আপিল বিভাগের দেওয়া পূর্ববর্তী নির্দেশনার সরাসরি লঙ্ঘন।
রাজস্ব বনাম জনস্বাস্থ্য: স্বাস্থ্যমন্ত্রী রাজস্ব আদায়ের যুক্তিতে এই নিষিদ্ধকরণ বাতিলের কথা বললেও, গবেষণায় দেখা গেছে তামাকজনিত ক্ষতির পরিমাণ (বছরে প্রায় ৮৭,৫০০ কোটি টাকা) প্রাপ্ত রাজস্বের চেয়ে অনেক বেশি।
মাদকের বিস্তার: উদ্বেগের বিষয় হলো, ভ্যাপ লিকুইডে ‘এমডিএমবি’ (শয়তানের নিঃশ্বাস) নামক বিপজ্জনক মাদক মিশিয়ে সরবরাহের খবর পাওয়া যাচ্ছে, যা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হতে পারে।
১. আন্তর্জাতিক চিত্র: বর্তমানে বিশ্বের ১৩২টি দেশ ই-সিগারেট নিয়ন্ত্রণ করছে, যার মধ্যে ৪৬টি দেশ এটি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে। বাংলাদেশ এই বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার ধারার বিপরীত পথে হাঁটছে বলে সংগঠনগুলো মনে করে।
২. উৎপাদনে অনুমোদন: মাত্র ৬১ কোটি টাকার বিনিয়োগের বিপরীতে একটি বহুজাতিক কোম্পানিকে নিকোটিন পাউচ উৎপাদনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যা জনস্বার্থের পরিপন্থী।
২০০৫ সালের মূল তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের চেতনা ধরে রাখতে এবং জনস্বাস্থ্য রক্ষায় সংগঠনগুলো সরকারের কাছে নিম্নলিখিত আহ্বান জানিয়েছে:
ই-সিগারেট, ভ্যাপ ও নিকোটিন পাউচসহ সকল ধরনের ইমার্জিং টোব্যাকো প্রোডাক্ট অবিলম্বে পুনরায় নিষিদ্ধ করতে হবে।
জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার অঙ্গীকার রক্ষার্থে দ্রুত কার্যকর ও কঠোর আইন প্রণয়ন করতে হবে।
তরুণদের তামাক ও মাদকের হাত থেকে বাঁচাতে বাণিজ্যিক স্বার্থের চেয়ে জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
এসআর