[email protected] রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬
২৮ চৈত্র ১৪৩২

ই-সিগারেট পুনরায় নিষিদ্ধের দাবি: জনস্বাস্থ্য রক্ষায় তামাক বিরোধী জোটের আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১১ এপ্রিল ২০২৬ ৯:১৫ পিএম

জাতীয় সংসদে সম্প্রতি পাস হওয়া ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) বিল ২০২৬’ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দেশের শীর্ষস্থানীয় তামাক বিরোধী ও জনস্বাস্থ্য রক্ষা বিষয়ক সংগঠনগুলো। ১১ এপ্রিল ২০২৬

 তারিখে এক যৌথ বার্তায় বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট (বাটা), বাংলাদেশ ক্যান্সার সোসাইটিসহ ১৬টি সংগঠন ই-সিগারেট ও নিকোটিন পাউচ পুনরায় নিষিদ্ধ করে দ্রুত আইন প্রণয়নের জোর দাবি জানিয়েছে।

​নিয়ন্ত্রণহীন বাজার: নতুন সংশোধিত আইনে ই-সিগারেট, ভ্যাপ এবং নিকোটিন পাউচের মতো ক্ষতিকর পণ্য নিষিদ্ধের বিধান বাতিল করা হয়েছে। এর ফলে এসব পণ্য বাজারে উন্মুক্ত হয়ে পড়বে, যা তরুণ প্রজন্মের জন্য মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করবে।

​আদালতের রায়ের পরিপন্থী: সংগঠনগুলোর মতে, এই সিদ্ধান্ত তামাক ব্যবহার হ্রাসে আপিল বিভাগের দেওয়া পূর্ববর্তী নির্দেশনার সরাসরি লঙ্ঘন।

​রাজস্ব বনাম জনস্বাস্থ্য: স্বাস্থ্যমন্ত্রী রাজস্ব আদায়ের যুক্তিতে এই নিষিদ্ধকরণ বাতিলের কথা বললেও, গবেষণায় দেখা গেছে তামাকজনিত ক্ষতির পরিমাণ (বছরে প্রায় ৮৭,৫০০ কোটি টাকা) প্রাপ্ত রাজস্বের চেয়ে অনেক বেশি।

​মাদকের বিস্তার: উদ্বেগের বিষয় হলো, ভ্যাপ লিকুইডে ‘এমডিএমবি’ (শয়তানের নিঃশ্বাস) নামক বিপজ্জনক মাদক মিশিয়ে সরবরাহের খবর পাওয়া যাচ্ছে, যা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হতে পারে।

​১. আন্তর্জাতিক চিত্র: বর্তমানে বিশ্বের ১৩২টি দেশ ই-সিগারেট নিয়ন্ত্রণ করছে, যার মধ্যে ৪৬টি দেশ এটি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে। বাংলাদেশ এই বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার ধারার বিপরীত পথে হাঁটছে বলে সংগঠনগুলো মনে করে।

২. উৎপাদনে অনুমোদন: মাত্র ৬১ কোটি টাকার বিনিয়োগের বিপরীতে একটি বহুজাতিক কোম্পানিকে নিকোটিন পাউচ উৎপাদনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যা জনস্বার্থের পরিপন্থী।

 

​২০০৫ সালের মূল তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের চেতনা ধরে রাখতে এবং জনস্বাস্থ্য রক্ষায় সংগঠনগুলো সরকারের কাছে নিম্নলিখিত আহ্বান জানিয়েছে:

​ই-সিগারেট, ভ্যাপ ও নিকোটিন পাউচসহ সকল ধরনের ইমার্জিং টোব্যাকো প্রোডাক্ট অবিলম্বে পুনরায় নিষিদ্ধ করতে হবে।

​জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার অঙ্গীকার রক্ষার্থে দ্রুত কার্যকর ও কঠোর আইন প্রণয়ন করতে হবে।

​তরুণদের তামাক ও মাদকের হাত থেকে বাঁচাতে বাণিজ্যিক স্বার্থের চেয়ে জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

এসআর

সম্পর্কিত খবর