[email protected] বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
২২ মাঘ ১৪৩২

শীতে যেসব অভ্যাস অজান্তেই বাড়াতে পারে ক্যান্সারের ঝুঁকি

প্রতিদিনের বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১১:১৫ এএম

শীতের আরামদায়ক দিনগুলোতে আমরা অনেক সময় এমন কিছু অভ্যাসে অভ্যস্ত হয়ে পড়ি, যা

 দীর্ঘমেয়াদে শরীরের জন্য মারাত্মক হতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, শীতকালীন কিছু জীবনযাপন পদ্ধতি ক্যান্সারের মতো রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। সুস্থ থাকতে যে বিষয়গুলো আমাদের নজরে রাখা জরুরি:


​১. শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা ও স্থূলতা
​ঠাণ্ডার কারণে শীতকালে বাইরে বের হওয়া বা ব্যায়াম করার প্রবণতা কমে যায়। দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা এবং কায়িক শ্রমের অভাব শরীরের বিপাকীয় প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে। অতিরিক্ত শারীরিক চর্বি স্তন, অগ্ন্যাশয় এবং কোলোরেক্টাল ক্যান্সারের ঝুঁকির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।


​২. ভিটামিন ডি-এর অভাব
​শীতের ছোট দিনে সূর্যের আলো কম পাওয়া যায়, ফলে শরীরে ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি দেখা দিতে পারে। ভিটামিন ডি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী রাখতে সাহায্য করে। এর অভাব দীর্ঘমেয়াদে প্রোস্টেট ও স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।


​৩. অস্বাস্থ্যকর ও প্রক্রিয়াজাত খাবার
​শীতকালে উষ্ণতা পেতে অনেকেই অতিরিক্ত ক্যালোরিযুক্ত এবং প্রক্রিয়াজাত খাবারের দিকে ঝুঁকে পড়েন। পুষ্টিকর খাবারের বদলে চর্বিযুক্ত আরামদায়ক খাবার খাওয়ার প্রবণতা ওজন বাড়িয়ে দেয়, যা বিপাকীয় পরিবর্তনের মাধ্যমে ক্যান্সারের পথ প্রশস্ত করে।


​৪. ইনডোর বায়ুদূষণ
​শীত থেকে বাঁচতে আমরা ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ রাখি। এর ফলে ঘরের ভেতরের বাতাস ঠিকমতো চলাচল করতে পারে না এবং দূষিত কণা ও কার্সিনোজেন ভেতরেই আটকে যায়। এটি ফুসফুসের টিস্যুর ক্ষতি করতে পারে এবং শ্বাসযন্ত্রের ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়।


​৫. দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও লক্ষণ অবহেলা
​শীতে সাধারণ সর্দি-কাশি বা ক্লান্তি দেখা দিলে আমরা সেটিকে মৌসুমি ফ্লু ভেবে এড়িয়ে যাই। কিন্তু ক্রমাগত কাশি বা ওজন কমে যাওয়া ক্যান্সারের প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল থাকায় এই সূক্ষ্ম লক্ষণগুলো অবহেলা করলে রোগ নির্ণয় দেরি হয়ে যায়, যা চিকিৎসার জন্য বিপজ্জনক।


​৬. অনিয়মিত ঘুম ও রুটিন
​শীতের দীর্ঘ রাত এবং দিনের আলোর স্বল্পতা আমাদের শরীরের জৈবিক ঘড়ি বা 'সার্কাডিয়ান রিদম' ব্যাহত করতে পারে। দীর্ঘস্থায়ী ঘুমের অভাব হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে, যা ক্যান্সার প্রতিরোধে শরীরের স্বাভাবিক ক্ষমতা কমিয়ে দেয়।


​সতর্কতা: শীতে অলসতা কাটিয়ে ঘরের ভেতরে সক্রিয় থাকা, পর্যাপ্ত সূর্যের আলো নেওয়া এবং পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার মাধ্যমে এই ঝুঁকিগুলো অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

এসআর

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর