মা হওয়া একজন নারীর জীবনের একটি বিশেষ অধ্যায়, ঠিক তেমনি বাবা হওয়া মানে দায়িত্ব
বেড়ে যাওয়া। গর্ভধারণের চেষ্টা করার আগে হবু বাবা ও মা উভয়েরই শারীরিক সক্ষমতা যাচাই করা প্রয়োজন। সফলভাবে গর্ভধারণের জন্য নিচের পাঁচটি বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি:
১. ডিম্বাশয়ের রিজার্ভ (Ovarian Reserve)
নারীর ডিম্বাশয়ে ঠিক কতগুলো ডিম্বাণু অবশিষ্ট আছে, তা জানা জরুরি। চিকিৎসকরা সাধারণত এএমএইচ (AMH) হরমোন পরীক্ষা বা আল্ট্রাসাউন্ডের মাধ্যমে এটি নির্ণয় করেন। ৩০ বছরের পর থেকে প্রাকৃতিকভাবেই এই রিজার্ভ কমতে থাকে, তাই আগে থেকে এটি জানা থাকলে চিকিৎসার সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হয়।
২. নিয়মিত ডিম্বস্ফোটন বা ওভুলেশন
গর্ভধারণের জন্য নিয়মিত মাসিক চক্র হওয়া জরুরি। যদি পিরিয়ড অনিয়মিত হয়, তবে বুঝতে হবে হরমোনের সমস্যা যেমন—PCOS বা থাইরয়েডজনিত জটিলতা থাকতে পারে। প্রায় ২৫ শতাংশ ক্ষেত্রে বন্ধ্যাত্বের কারণ হিসেবে ডিম্বস্ফোটনের সমস্যাকে চিহ্নিত করা হয়।
৩. শুক্রাণুর সুস্থতা ও গুণমান
গর্ভধারণের ব্যর্থতার জন্য কেবল নারীদের দায়ী করা ভুল। গবেষণামতে, প্রায় ৪০-৫০ শতাংশ ক্ষেত্রে পুরুষের ফার্টিলিটি বা শুক্রাণুর গুণগত মান দায়ী হতে পারে। বীর্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে শুক্রাণুর সংখ্যা, এর গতিশীলতা এবং আকৃতি পরীক্ষা করা উচিত, কারণ কেবল সংখ্যা বেশি হওয়াই যথেষ্ট নয়।
৪. জরায়ু ও ফ্যালোপিয়ান টিউবের অবস্থা
ডিম্বাণু এবং শুক্রাণুর মিলনের জন্য নারীর প্রজনন পথ পরিষ্কার থাকা প্রয়োজন। ফ্যালোপিয়ান টিউবে কোনো ব্লক থাকলে, জরায়ুতে ফাইব্রয়েড বা পলিপ থাকলে গর্ভধারণের সম্ভাবনা কমে যায়। তাই এই অঙ্গগুলোর সুস্থতা নিশ্চিত করা প্রাথমিক ধাপ।
৫. বয়স ও জেনেটিক ঝুঁকি
বয়স বাড়ার সাথে সাথে ডিম্বাণু ও শুক্রাণুর জেনেটিক গুণমান কমতে থাকে। বিশেষ করে ৩৫ বছরের পর গর্ভধারণের ক্ষেত্রে ক্রোমোজোম অস্বাভাবিকতার ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই সঠিক সময়ে পরিকল্পনা করা এবং প্রয়োজনে জেনেটিক স্ক্রিনিং করা নিরাপদ।
গর্ভধারণ একটি যৌথ যাত্রা। তাই কেবল স্ত্রী নয়, স্বামীকেও সমানভাবে নিজের স্বাস্থ্যের প্রতি সচেতন থাকতে হবে। সঠিক খাদ্যাভ্যাস এবং চিকিৎসকের পরামর্শ এই পথকে আরও সহজ করে তোলে।
এসআর
মন্তব্য করুন: