আজ শরীর সুস্থ থাকলেই যে ভবিষ্যতে কোলেস্টেরল নিয়ে দুশ্চিন্তা থাকবে না—এমনটা ভাবার সুযোগ নেই।
সাধারণত কম বয়সে কোলেস্টেরলের সমস্যা স্পষ্ট হয় না, কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঝুঁকিও বাড়তে থাকে। বিশেষ করে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে যদি আগে থেকেই উচ্চ কোলেস্টেরলের ইতিহাস থাকে, তাহলে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য সতর্কতা আরও বেশি প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যাদের জিনগতভাবে কোলেস্টেরলের ঝুঁকি রয়েছে, তাদের উচিত আগেভাগেই খাদ্যাভ্যাসে সচেতন হওয়া। প্রতিদিনের খাবারের ছোট পরিবর্তনই ভবিষ্যতে হৃদ্রোগসহ নানা জটিলতা থেকে সুরক্ষা দিতে পারে। জেনে নেওয়া যাক—কোন খাবার উপকারী, আর কোনগুলো এড়িয়ে চলাই ভালো।
শরীরে ভালো কোলেস্টেরল বা এইচডিএল বাড়াতে সহায়ক এমন খাবার বেছে নেওয়ার পরামর্শ দেন পুষ্টিবিদরা। বিশেষ করে মেডিটেরানিয়ান ডায়েটে থাকা অলিভ অয়েল, বিভিন্ন বাদাম ও বীজ নিয়মিত খেলে কোলেস্টেরলের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। এসব খাবারে থাকা উপকারী ফ্যাট হৃদ্স্বাস্থ্যের জন্যও ভালো।
রেড মিট যতটা সম্ভব কম খাওয়া উচিত, কারণ এটি খারাপ কোলেস্টেরল বাড়াতে পারে। পাশাপাশি অতিরিক্ত তেলে ভাজা খাবার ও ফাস্ট ফুড কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়ানোর পাশাপাশি হৃদ্যন্ত্রের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
দিনের শুরুটা ওটস দিয়ে করলে শরীর পায় প্রয়োজনীয় ফাইবার। ওটস কোলেস্টেরল কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখে। স্বাদ ও পুষ্টিগুণ বাড়াতে এর সঙ্গে মৌসুমি ফল যোগ করা যেতে পারে।
দুপুরের খাবারের আগে এক কোয়া কাঁচা রসুন খাওয়ার অভ্যাস অনেকের ক্ষেত্রেই কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়ক হতে পারে। রসুন শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেও ভূমিকা রাখে।
গ্রিন টি-তে থাকা পলিফেনল ও ফ্ল্যাভোনয়েড কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে। প্রতিদিন এক কাপ গ্রিন টি পান করলে হৃদ্স্বাস্থ্য ভালো রাখতেও উপকার পাওয়া যায়।
নিয়মিত স্ট্রবেরি খাওয়ার অভ্যাস কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সহায়ক হতে পারে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, টানা কিছুদিন প্রতিদিন স্ট্রবেরি খেলে ভালো ফল পাওয়া যায়।
পরিবারে কোলেস্টেরলের ইতিহাস থাকলে আতঙ্কিত হওয়ার দরকার নেই। বরং সচেতন খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই হতে পারে সুস্থ ভবিষ্যতের সবচেয়ে বড় ভরসা।
এসআর
মন্তব্য করুন: