বাংলাদেশে ক্যানসার আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে
রেডিওথেরাপির অপ্রতুলতা। সরকারি হাসপাতালে রেডিওথেরাপির সিরিয়াল পেতে ৪ মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত সময় লেগে যাচ্ছে, যা ক্যানসারের মতো জীবনঘাতী রোগে আক্রান্তদের জন্য কার্যত মৃত্যুর অপেক্ষায় থাকার সমান। বিশেষজ্ঞরা এই পরিস্থিতিকে 'গণহত্যার' সঙ্গে তুলনা করেছেন।
সংকটের মূল চিত্র:
মেশিনের স্বল্পতা: আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (IAEA) মতে, বাংলাদেশে কমপক্ষে ১৭০টি রেডিওথেরাপি মেশিন প্রয়োজন। অথচ সরকারি পর্যায়ে সচল মেশিনের সংখ্যা মাত্র ১২টি।
বিভাগীয় বৈষম্য: রংপুর, খুলনা, বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগের সরকারি বা বেসরকারি কোনো হাসপাতালেই রেডিওথেরাপির কোনো ব্যবস্থা নেই। ফলে এসব অঞ্চলের রোগীদের ঢাকামুখী হতে হচ্ছে।
অকেজো যন্ত্রপাতি: ঢাকা মেডিকেল ও বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেলসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ হাসপাতালে মূল্যবান লিনাক মেশিন অকেজো হয়ে পড়ে আছে।
দীর্ঘ অপেক্ষা: জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউটে সিরিয়াল পেতে ১ বছর পর্যন্ত সময় লাগছে। বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়েও (বিএমইউ) অন্তত ৪ মাস অপেক্ষা করতে হয়।
বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ:
অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন জানান, জরায়ুমুখ বা অন্যান্য ক্যানসারের রোগীদের জন্য তাৎক্ষণিক থেরাপি প্রয়োজন। এক বছর পর সিরিয়াল পাওয়া মানে রোগীকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া, যা রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এক ধরণের 'গণহত্যা'।
অধ্যাপক ডা. লিয়াকত আলী বলেন, সরকারি হাসপাতালের যন্ত্রপাতি কেনা ও রক্ষণাবেক্ষণের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। প্রয়োজনে বেসরকারি হাসপাতালের সেবা সরকারের পক্ষ থেকে কিনে নিয়ে (স্ট্রাটেজিক পারচেজ) গরিব রোগীদের বিনামূল্যে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।
পরিসংখ্যান ও বাস্তবতা:
গবেষণা অনুযায়ী, দেশে প্রতি লাখে ক্যানসারে আক্রান্তের সংখ্যা ১০৬ জন। মোট মৃত্যুর ১২ শতাংশের জন্য দায়ী ক্যানসার। প্রায় ৮০ শতাংশ রোগীর রেডিওথেরাপি প্রয়োজন হলেও উচ্চমূল্যের কারণে সাধারণ মানুষ বেসরকারি হাসপাতালের সেবা নিতে পারছেন না।
সমাধানের প্রস্তাবনা:
বিশেষজ্ঞরা দ্রুত ৮টি বিভাগে পূর্ণাঙ্গ ক্যানসার চিকিৎসাকেন্দ্র চালুর কাজ শেষ করার এবং জরুরি ভিত্তিতে রেডিওথেরাপি মেশিন স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণের দাবি জানিয়েছেন।
এসআর
মন্তব্য করুন: