[email protected] সোমবার, ২৬ জানুয়ারি ২০২৬
১৩ মাঘ ১৪৩২

নিরাপদ মাতৃত্ব: গর্ভাবস্থায় যে ৫টি ভুল মা ও শিশুর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে

প্রতিদিনের বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০ জানুয়ারি ২০২৬ ১১:০৭ এএম

গর্ভাবস্থা একজন নারীর জীবনের সবচেয়ে সংবেদনশীল এবং গুরুত্বপূর্ণ সময়। এই সময়ে

 মায়ের নেওয়া প্রতিটি সিদ্ধান্ত সরাসরি গর্ভস্থ শিশুর ওপর প্রভাব ফেলে। ভুল তথ্য বা অসচেতনতার কারণে অনেক সময় গর্ভবতী মায়েরা কিছু সাধারণ ভুল করে ফেলেন, যা মা ও শিশু উভয়ের জন্যই জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।

সুস্থ গর্ভাবস্থার জন্য যে ৫টি ভুল এড়িয়ে চলা জরুরি, তা নিচে আলোচনা করা হলো:


​১. নিয়মিত চেকআপে অবহেলা
​অনেক নারীই নিয়মিত প্রসবপূর্ব চেকআপ (Antenatal Care) গুরুত্ব দেন না। বিশেষ করে প্রথম ও শেষ তিন মাসে চেকআপ মিস করা বড় ভুল। নিয়মিত পরীক্ষার মাধ্যমে শিশুর বৃদ্ধি, মায়ের রক্তচাপ, সুগার এবং হিমোগ্লোবিনের মাত্রা পর্যবেক্ষণ করা হয়। এতে করে গর্ভকালীন ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপের মতো সমস্যাগুলো দ্রুত শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়।


​২. সঠিক পুষ্টির অভাব ও ডায়েট ট্রেন্ড অনুসরণ
​গর্ভাবস্থায় অনেকের ধারণা থাকে 'দুইজনের খাবার' খেতে হবে, যা সঠিক নয়। আবার অনেকে ওজন বাড়ার ভয়ে ডায়েট নিয়ন্ত্রণ করেন। পুষ্টিবিদদের মতে, গর্ভাবস্থায় পরিমাণের চেয়ে খাবারের গুনাগুণ বেশি গুরুত্বপূর্ণ। পর্যাপ্ত প্রোটিন, আয়রন, ক্যালসিয়াম ও ফলিক অ্যাসিড নিশ্চিত করতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো বিশেষ ডায়েট চার্ট অনুসরণ করা শিশুর বিকাশে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।


​৩. চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ সেবন
​সামান্য মাথা ব্যথা বা ঠাণ্ডা-জ্বরে নিজের ইচ্ছামতো ওষুধ খাওয়া গর্ভাবস্থায় অত্যন্ত বিপজ্জনক। কিছু সাধারণ ওষুধ প্লাসেন্টা পার হয়ে শিশুর ক্ষতি করতে পারে। এমনকি ভেষজ বা ঘরোয়া টোটকা ব্যবহারের আগে বিশেষজ্ঞের মতামত নেওয়া জরুরি। কারণ 'প্রাকৃতিক' মানেই গর্ভাবস্থায় সেটি নিরাপদ নয়।


​৪. শারীরিক পরিশ্রম বা নড়াচড়া একদম বন্ধ করে দেওয়া

অনেকে মনে করেন গর্ভাবস্থায় সারাক্ষণ বিছানায় শুয়ে থাকাই নিরাপদ। চিকিৎসকের কোনো বিশেষ নিষেধাজ্ঞা না থাকলে, মাঝারি পরিশ্রম যেমন—হাঁটাচলা, ইয়োগা বা হালকা ব্যায়াম শরীরের জন্য উপকারী। এটি রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়, পিঠের ব্যথা কমায় এবং শরীরকে প্রসবের জন্য প্রস্তুত করে। অলস জীবনযাপন ওজন বৃদ্ধি ও সিজারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে।


​৫. মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি উদাসীনতা
​গর্ভাবস্থায় হরমোনের পরিবর্তনের কারণে দুশ্চিন্তা, ঘুমের অভাব বা মেজাজ খিটখিটে হওয়া স্বাভাবিক। তবে এই মানসিক চাপকে অবহেলা করা ঠিক নয়। দীর্ঘস্থায়ী উদ্বেগ শিশুর হরমোনের ভারসাম্য এবং বিকাশে প্রভাব ফেলে। তাই গর্ভাবস্থায় পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং পরিবারের সদস্যদের সাথে খোলামেলা আলোচনা ও হাসিখুশি থাকা অত্যন্ত জরুরি।

এসআর

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর