[email protected] বৃহঃস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
১৪ ফাল্গুন ১৪৩২

খাবারের পর হাঁটা শরীরের জন্য কতটা উপকারী?

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ ১:৩৮ পিএম

সংগৃহীত ছবি

খাবার খাওয়ার পর অল্প সময় হাঁটার অভ্যাস এখন অনেকের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে উঠছে।

অনেকেই একে নতুন কোনো ফিটনেস ট্রেন্ড মনে করলেও বাস্তবে এই অভ্যাস শরীরের জন্য বেশ উপকার বয়ে আনতে পারে। হজমশক্তি বাড়ানো থেকে শুরু করে রক্তে শর্করা ও ওজন নিয়ন্ত্রণ—বিভিন্ন ক্ষেত্রেই এর ইতিবাচক প্রভাব লক্ষ্য করা যায়।


তবে খাবারের পর হাঁটা কতটা উপকারী, এতে কোনো সমস্যা আছে কি না এবং কীভাবে হাঁটলে সবচেয়ে ভালো ফল পাওয়া যায়—এসব বিষয় জানা জরুরি।
খাবারের পর হাঁটার উপকারিতা
হজমে সহায়তা করে


খাওয়ার পর হালকা হাঁটাচলা করলে পাকস্থলী ও অন্ত্রের কার্যক্রম সচল থাকে। ফলে খাবার সহজে হজম হয় এবং পেট ভারী লাগা বা অস্বস্তির অনুভূতি কমে। শরীরের নড়াচড়া হজম প্রক্রিয়াকে স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে।
গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত হাঁটার অভ্যাস হজমতন্ত্রের বিভিন্ন অঙ্গ—যেমন খাদ্যনালি, পাকস্থলী ও অন্ত্র—সুস্থ রাখতে ভূমিকা রাখে।


রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করে
খাবারের পর হালকা হাঁটা রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যাওয়া কমাতে সহায়ক। ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য এটি বিশেষভাবে উপকারী হলেও, ডায়াবেটিস না থাকলেও এই অভ্যাস রক্তে শর্করার ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, খাবারের পর কয়েক মিনিট হাঁটা একবারে দীর্ঘ সময় হাঁটার চেয়ে রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে বেশি কার্যকর হতে পারে।


হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী
নিয়মিত হাঁটা হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে। এটি রক্তচাপ ও ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে এবং হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের সম্ভাবনাও হ্রাস করে।
প্রতিদিন তিন বেলা খাবারের পর অল্প সময় হাঁটলে সহজেই দৈনিক প্রয়োজনীয় শারীরিক কার্যকলাপ সম্পন্ন করা যায়।


ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক
ওজন নিয়ন্ত্রণের জন্য ক্যালরি খরচ বাড়ানো জরুরি। খাবারের পর হাঁটা অতিরিক্ত ক্যালরি পোড়াতে সাহায্য করে এবং দীর্ঘমেয়াদে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভূমিকা রাখতে পারে।
রক্তচাপ কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে
যারা খুব একটা শরীরচর্চা করেন না, তাদের ক্ষেত্রে খাবারের পর হাঁটা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে। বিশেষ করে উচ্চ রক্তচাপে ভোগা ব্যক্তিদের জন্য এটি উপকারী অভ্যাস।


সম্ভাব্য কিছু অসুবিধা
খাবারের পর হাঁটার বড় কোনো ক্ষতিকর দিক সাধারণত নেই। তবে কেউ কেউ যদি খুব দ্রুত বা বেশি জোরে হাঁটেন, তাহলে পেটে ব্যথা, গ্যাস, বমিভাব বা অস্বস্তি অনুভব করতে পারেন।
এ ধরনের সমস্যা এড়াতে খাবারের পর ১০–১৫ মিনিট বিরতি নিয়ে হাঁটা শুরু করা এবং গতি হালকা রাখা ভালো।


কতক্ষণ হাঁটা যথেষ্ট
খাবারের পর প্রায় ১০ মিনিট হাঁটলেই ভালো ফল পাওয়া যায়। এতে উপকার পাওয়া যায় এবং পেটের সমস্যা হওয়ার ঝুঁকিও কম থাকে। দিনে তিন বেলা খাবারের পর ১০ মিনিট করে হাঁটলে মোট ৩০ মিনিট হাঁটা সম্পন্ন হয়, যা শরীরের জন্য যথেষ্ট উপকারী।
হাঁটার গতি কেমন হওয়া উচিত
খাওয়ার পর দৌড়ানো বা খুব দ্রুত হাঁটা ঠিক নয়। হজমের সময় অতিরিক্ত চাপ দিলে পেটের সমস্যা হতে পারে।


হালকা থেকে মাঝারি গতিতে হাঁটাই সবচেয়ে ভালো। এমন গতিতে হাঁটুন যাতে শ্বাস নিতে কষ্ট না হয়, তবে হৃৎস্পন্দন সামান্য বেড়ে যায়। সাধারণভাবে ঘণ্টায় প্রায় ৫ কিলোমিটারের কম গতিতে হাঁটা উপযুক্ত।


খাবারের পর হালকা হাঁটা একটি সহজ কিন্তু কার্যকর স্বাস্থ্যকর অভ্যাস। এটি হজম ভালো রাখতে সাহায্য করে, রক্তে শর্করা ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হয়, হৃদ্‌স্বাস্থ্য উন্নত করে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে।
তবে হাঁটার সময় ও গতি নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি। খুব বেশি জোর না দিয়ে নিয়মিত অল্প সময় হাঁটলেই উপকার পাওয়া যায়। যাদের আগে থেকে শারীরিক কোনো জটিলতা রয়েছে, তারা নতুন কোনো ব্যায়াম শুরু করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিলে ভালো। দৈনন্দিন জীবনে এই ছোট অভ্যাসটি যোগ করলে দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ থাকা অনেক সহজ হতে পারে।

এসআর

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর