[email protected] রবিবার, ১১ জানুয়ারি ২০২৬
২৮ পৌষ ১৪৩২

ধূমপানের ক্ষতি কমাতে সহায়ক ৫টি উপকারী খাবার

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৯ জানুয়ারি ২০২৬ ১০:৪৯ পিএম

সংগৃহীত ছবি

বাংলাদেশসহ বিশ্বজুড়ে ধূমপান একটি মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি হিসেবে বিবেচিত।

প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ এই অভ্যাসে জড়িয়ে পড়ছেন, যার ধোঁয়া সরাসরি ফুসফুসের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। নিয়মিত ধূমপানের ফলে শ্বাসপ্রশ্বাসের সক্ষমতা কমে যায় এবং বাড়ে শ্বাসকষ্ট, অ্যাজমা এমনকি ক্যানসারের আশঙ্কা। বিশেষজ্ঞদের মতে, ধূমপান মূলত শরীরকে ধীরে ধীরে ধ্বংসের পথে ঠেলে দেয়।
তবে ইতিবাচক দিক হলো—ধূমপান বন্ধ করলে শরীরের পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়া শুরু হয়। অনেক ক্ষেত্রে ফুসফুসের ক্ষতি পুরোপুরি স্থায়ী হয় না। সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন শরীরকে আবার শক্তি ফিরে পেতে সাহায্য করতে পারে। যদিও মনে রাখতে হবে, কোনো খাবারই দীর্ঘদিনের ধূমপানের ক্ষতি পুরোপুরি মুছে দিতে সক্ষম নয়। তবে কিছু খাবার প্রদাহ কমায়, ফুসফুস পরিষ্কার রাখতে সহায়তা করে এবং শরীরের স্বাভাবিক আরোগ্য প্রক্রিয়াকে দ্রুত করে।
ভারতের পালমোনোলজিস্ট ডা. সোনিয়া গোয়েল সম্প্রতি এক ভিডিও বার্তায় ধূমপান ছাড়ার পর ফুসফুসের যত্নে সহায়ক পাঁচটি খাবারের কথা তুলে ধরেন। তার মতে, ধূমপান ত্যাগ করাই প্রথম ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ, এরপর সঠিক খাবার বেছে নিলে সুস্থ হওয়ার গতি অনেকটাই বাড়ে।
চলুন জেনে নেওয়া যাক সেই খাবারগুলো—

ক্রুসিফেরাস শ্রেণির সবজি
ব্রোকলি, ফুলকপি ও বাঁধাকপির মতো সবজিতে সালফোরাফেন নামের একটি উপাদান রয়েছে। এটি ফুসফুসের ডিটক্স প্রক্রিয়াকে সক্রিয় করে এবং ধোঁয়ার কারণে জমে থাকা ক্ষতিকর উপাদান বের করতে সাহায্য করে।
বিট ও ডালিম
এই দুটি ফলে প্রাকৃতিক নাইট্রেট পাওয়া যায়, যা শরীরে অক্সিজেন প্রবাহ বাড়াতে সহায়তা করে। ধূমপায়ীদের ক্ষেত্রে যে অক্সিজেনের ঘাটতি তৈরি হয়, তা পূরণে এগুলো কার্যকর ভূমিকা রাখে।
গ্রিন টি
গ্রিন টিতে থাকা ক্যাটেচিন নামের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ফুসফুসের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। পাশাপাশি এটি সিওপিডি ও ফুসফুস ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতেও সহায়ক বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
আপেল ও সাইট্রাস ফল
আপেলে থাকা কোয়েরসেটিন এবং কমলা, লেবুর মতো সাইট্রাস ফলে থাকা ভিটামিন সি ফুসফুসের কোষ পুনর্গঠনে সহায়তা করে। নিয়মিত এসব ফল খেলে শ্বাসনালীর কার্যক্ষমতা ধীরে ধীরে উন্নত হয়।
হলুদ
হলুদের কারকিউমিন একটি শক্তিশালী প্রদাহনাশক উপাদান। এটি শ্বাসনালির দীর্ঘদিনের প্রদাহ কমাতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত টিস্যু মেরামতে সাহায্য করে।

ডা. সোনিয়া গোয়েল জোর দিয়ে বলেন, ফুসফুস সুস্থ রাখার মূল চাবিকাঠি হলো ধূমপান সম্পূর্ণভাবে ত্যাগ করা। এর সঙ্গে সুষম খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মিত শরীরচর্চা যুক্ত হলে শরীর ধীরে ধীরে নতুন শক্তি ফিরে পায়। তাই সিগারেট থেকে দূরে থেকে এই উপকারী খাবারগুলো খাদ্যতালিকায় রাখলে সুস্থ জীবনের পথে এগোনো সহজ হবে।

এসআর

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর