সব নিয়ম মেনে খাবার খাওয়ার পরও যদি ওজন না কমে, তাহলে
নিশ্চয়ই বিষয়টি হতাশার। আপনি হয়তো স্বাস্থ্যকর খাবার বেছে নিচ্ছেন, বাইরের অস্বাস্থ্যকর খাবার এড়িয়ে চলছেন এবং পর্যাপ্ত পানি পান করছেন। তবুও কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়ার একটি বড় কারণ হতে পারে খাদ্যতালিকায় ফাইবারের ঘাটতি।
ফিটনেস বিশেষজ্ঞদের মতে, অধিকাংশ মানুষই প্রতিদিন প্রয়োজনীয় আঁশ গ্রহণ করেন না। অথচ ওজন নিয়ন্ত্রণ ও দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতার জন্য ফাইবার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান।
কেন ফাইবার এত প্রয়োজনীয়?
বিশেষজ্ঞরা জানান, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন গড়ে ২৫ থেকে ৪০ গ্রাম ফাইবার প্রয়োজন। এই আঁশ শরীরে নানা গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে—
হজমে সহায়তা ও ওজন কমাতে সাহায্য করে
ফাইবার হজমশক্তি উন্নত করে, কোষ্ঠকাঠিন্য কমায় এবং দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে। ফলে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণ সহজ হয়।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়
অন্ত্রের ভালো ব্যাকটেরিয়াকে সক্রিয় রাখে ফাইবার, যা শরীরের প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করে।
ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়
এটি রক্তে শর্করা ও কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে, ফলে ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের আশঙ্কা কমে।
কীভাবে খাদ্যতালিকায় ফাইবার বাড়াবেন?
কিছু সহজ অভ্যাসের মাধ্যমেই দৈনন্দিন খাবারে ফাইবারের পরিমাণ বাড়ানো সম্ভব—
খোসাসহ ফল খান: অনেক ফলের খোসায় বেশি আঁশ থাকে, তাই সম্ভব হলে খোসা না ছাড়িয়েই ফল খান।
সবুজ শাকসবজি যোগ করুন: প্রতিদিনের খাবারে বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি রাখুন।
গোটা শস্য বেছে নিন: সাদা চাল বা পরিশোধিত আটার বদলে ওটস, কিনোয়া, বাজরা কিংবা ভুট্টার মতো গোটা শস্য গ্রহণ করুন।
ডাল ও বীজ খান: নানা ধরনের ডাল, তিসি বা কুমড়ার বীজ খাদ্যতালিকায় রাখুন।
বাদাম রাখুন অভ্যাসে: প্রতিদিন অল্প পরিমাণ বাদাম শরীরের জন্য উপকারী।
সুস্থ থাকতে শুধু প্রোটিন বা ভিটামিনই যথেষ্ট নয়। প্রতিদিনের খাবারে অন্তত ২৫ গ্রাম ফাইবার নিশ্চিত করতে পারলেই ওজন নিয়ন্ত্রণ ও সুস্থ জীবনযাপন অনেক সহজ হয়ে উঠবে।
এসআর
মন্তব্য করুন: