রঙহীন জীবন যেমন একঘেয়ে, তেমনি রঙহীন খাবারের প্লেটও
আকর্ষণহীন। খাবার দেখেই আমাদের খাওয়ার আগ্রহ তৈরি হয়, এমনকি হজম প্রক্রিয়ার প্রস্তুতিও শুরু হয়। তবে খাবারের রঙ শুধু সৌন্দর্যের জন্য নয়—প্রতিটি রঙের সঙ্গে জড়িয়ে আছে ভিন্ন ভিন্ন পুষ্টিগুণ ও স্বাস্থ্য উপকারিতা।
ফল ও শাকসবজির উজ্জ্বল রঙের পেছনে রয়েছে প্রাকৃতিক উদ্ভিদ রঞ্জক, যেগুলোকে বলা হয় ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট। যেমন—ফ্ল্যাভোনয়েড, ক্যারোটিনয়েড ও অ্যান্থোসায়ানিন। এগুলো শরীর নিজে তৈরি করতে পারে না, কিন্তু রোগ প্রতিরোধ, প্রদাহ কমানো এবং বিভিন্ন দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতা থেকে সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
চলুন দেখে নেওয়া যাক, কোন রঙের খাবার কী উপকার করে—
১. লাল রঙের খাবার
লাল ফল ও সবজিতে থাকে লাইকোপিন নামের শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এটি শরীরের ক্ষতিকর উপাদান দূর করতে সাহায্য করে এবং কোষকে ক্ষয় হওয়া থেকে রক্ষা করে। চোখের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে এবং বয়সজনিত দৃষ্টিশক্তি হ্রাস ধীর করতেও এটি কার্যকর।
লাল রঙের খাবার হৃদ্স্বাস্থ্য উন্নত করে, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং প্রদাহ কমায়। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, এটি প্রোস্টেট ও স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতেও সহায়ক হতে পারে।
খাবারের উদাহরণ: টমেটো, তরমুজ, গোলাপি পেয়ারা, জাম্বুরা, লাল গাজর।
২. কমলা ও হলুদ রঙের খাবার
এই রঙের খাবারে থাকা বিটা-ক্রিপ্টোক্সানথিন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। এটি শরীরের ফ্রি র্যাডিকেল কমিয়ে বার্ধক্য ও দীর্ঘস্থায়ী রোগের ঝুঁকি হ্রাস করে।
এ ধরনের খাবার চোখের দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে, ত্বক সুস্থ রাখতে এবং কোষের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
খাবারের উদাহরণ: আম, পেঁপে, কমলা, কুমড়া, হলুদ ক্যাপসিকাম।
৩. সবুজ রঙের খাবার
সবুজ শাকসবজির রঙের জন্য দায়ী ক্লোরোফিল, যা পুষ্টিগুণে ভরপুর। এতে থাকা বিটা ক্যারোটিন ক্যান্সার, হৃদরোগ এবং দৃষ্টিশক্তি হ্রাসের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে।
সবুজ খাবারের ফাইবার হজম শক্তিশালী করে, কোলেস্টেরল কমায় এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। ভিটামিন কে ও পটাশিয়াম রক্তচাপ ও রক্ত জমাট বাঁধার প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া সালফোরাফেন জাতীয় উপাদান শরীরের ডিটক্সিফিকেশন প্রক্রিয়াকে সক্রিয় করে।
খাবারের উদাহরণ: পালং শাক, ব্রকলি, কেল, সজনে ডাটা, মেথি, বাঁধাকপি, অ্যাসপারাগাস, কিউই, স্প্রাউট, গ্রিন টি।
এসআর
মন্তব্য করুন: