বাংলাদেশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে জাতিসংঘ সতর্ক করেছিল যে, যদি সেনাবাহিনী দমনমূলক পদক্ষেপ নেয়, তাহলে শান্তিরক্ষা মিশনে তাদের অংশগ্রহণ বন্ধ হতে পারে।
সম্প্রতি বিবিসির হার্ডটকে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক এ কথা বলেন।
বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিস গত বুধবার এই সাক্ষাৎকারটি প্রচার করে। বিশ্বজুড়ে সংঘাত ও সহিংসতা মানবাধিকারের ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলে, সে বিষয়ে আলোচনা করতে তিনি তখন সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ছিলেন। সেখান থেকে বিবিসির স্টিফেন স্যাকুরের সঙ্গে তিনি আলাপ করেন।
আলোচনার শুরুতে উপস্থাপক বৈশ্বিক সংঘাত বৃদ্ধির প্রসঙ্গ তোলেন। জবাবে ভলকার তুর্ক জানান, এসব সংঘাতের কারণে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ক্রমাগত শিরোনামে আসছে। বর্তমানে ৫৯টি দেশে সহিংস ঘটনা ঘটছে, যার পেছনে ভূরাজনৈতিক কারণগুলো দায়ী।
গাজা, ইউক্রেন ও সুদানের প্রসঙ্গ উঠলে জাতিসংঘের ভূমিকা নিয়ে তিনি বলেন, হতাহতের সংখ্যা কমানোর জন্য তারা সচেষ্ট। তিনি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের অভাবকে সহিংসতার অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেন।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের শাসনামলে যুক্তরাষ্ট্র মানবাধিকার কাউন্সিল থেকে বেরিয়ে যাওয়ার প্রসঙ্গ তুললে তুর্ক বলেন, এর ফলে অন্যান্য দেশও প্রভাবিত হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি বাংলাদেশের প্রসঙ্গ টানেন।
তিনি বলেন, গত বছরের জুলাই-আগস্টে শিক্ষার্থীরা বড় ধরনের আন্দোলন করেছিল, যা সরকার দমন করেছিল। জাতিসংঘ তখন কঠোর অবস্থান নেয় এবং সেনাবাহিনীকে সতর্ক করে, যাতে তারা সংঘাতে না জড়ায়, অন্যথায় শান্তিরক্ষা মিশনে অংশগ্রহণের সুযোগ হারাবে।
পরবর্তীতে পরিস্থিতি বদলাতে দেখা যায়। ড. মুহাম্মদ ইউনূস সরকার পরিচালনার দায়িত্ব নেন, এবং মানবাধিকারের বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা সামনে আসে।
এসআর
মন্তব্য করুন: