জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের বলেছেন, বর্তমান সরকার নিরপেক্ষ নয় এবং সঠিক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্পন্ন করতে পারবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।
তিনি মনে করেন, অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং দেশে-বিদেশে গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সরকারই দেশের অচলাবস্থা ও অনিশ্চয়তা থেকে মুক্তি দিতে পারে।
শনিবার (২৩ জানুয়ারি) বনানীতে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে প্রেসিডিয়াম সদস্যদের সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
গোলাম মোহাম্মদ কাদের বলেন, “অনেক আগেই আমরা সংবিধান সংস্কারের দাবি তুলেছি। তবে এটি বাস্তবায়ন করতে হলে একটি নির্বাচিত পার্লামেন্ট প্রয়োজন। নির্বাচিত পার্লামেন্ট ছাড়া কোনো সংস্কারই গ্রহণযোগ্য হবে না। সকল রাজনৈতিক দলের সম্মতিতে নির্বাচিত পার্লামেন্টে এই সংস্কার প্রস্তাব গৃহীত হওয়া উচিত।”
তিনি আরও বলেন, “বর্তমানে যেসব সংস্কার প্রস্তাব তোলা হয়েছে তা একপেশে এবং বাস্তবতার সঙ্গে ততটা সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। আমরা এই একতরফা প্রস্তাবে আগ্রহী নই। তবে নির্বাচিত পার্লামেন্টে আলোচনা করে বাস্তবসম্মত সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে কাজ করতে চাই।”
জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “দেশ ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। এমন অনিশ্চয়তার মধ্যে কেউই দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে নিশ্চিত নয়। জাতীয় পার্টি একটি নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে, তবে আমাদের নেতা-কর্মীদের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। বৈষম্যমূলক আচরণের মাধ্যমে আমাদের স্বাভাবিক রাজনীতিতে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে। এ অবস্থায় সবার জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি হবে কি?”
তিনি অভিযোগ করেন, “সরকারের সহায়তায় কয়েকটি রাজনৈতিক দল রাজনীতির মাঠ দাপিয়ে বেড়াচ্ছে এবং ক্ষমতার মোহে দেশকে বিভক্ত করছে। বিভিন্ন অজুহাতে জাতীয় নির্বাচন বিলম্বিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। অন্যদিকে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বেকারত্ব ও অরাজক পরিস্থিতি মানুষের জীবনে বিপর্যয় ডেকে এনেছে। এ কারণেই দেশের অর্ধেকের বেশি মানুষ সরকারের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে।”
গোলাম মোহাম্মদ কাদের আরও বলেন, “জাতীয় পার্টি মাঠে থাকবে। আমরা মানুষের অধিকার আদায়ের প্রশ্নে কখনো পিছপা হব না। শত নির্যাতনের মধ্যেও আমরা রাজপথে থেকে মানুষের অধিকার আদায় করব। নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, নিরাপত্তাহীনতা ও প্রশাসনের অদক্ষতায় মানুষ দিশেহারা। জাতীয় পার্টি মানুষের অধিকার নিশ্চিত করতে লড়াই চালিয়ে যাবে।”
সভায় বক্তব্য রাখেন সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু, কো-চেয়ারম্যান এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার, প্রেসিডিয়াম সদস্য হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, মীর আব্দুস সবুর আসুদ, হাজী সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন, এ.টি.ইউ. তাজ রহমান, সোলায়মান আলম শেঠ, নাসরিন জাহান রতনা, আব্দুর রশীদ সরকার, ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী, অ্যাডভোকেট মো. রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, সৈয়দ দিদার বখ্ত, নাজমা আখতার, আলমগীর সিকদার লোটন, এমরান হোসেন মিয়া, লিয়াকত হোসেন খোকা, মো. জহিরুল ইসলাম জহির, মোস্তফা আল মাহমুদ, মোহাম্মদ আতিকুর রহমান আতিক, জহিরুল আলম রুবেল, শেরীফা কাদের, মাসরুর মওলা, জসীম উদ্দিন ভূঁইয়া, মো. আরিফুর রহমান খান এবং মো. আশরাফুজ্জামান আশু।
এসআর
মন্তব্য করুন: