সকালের আকাশে ছিল হালকা মেঘের ছায়া। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশ দিয়ে ভোলা রোড ধরে হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎই চোখ আটকে যায় রাস্তার এক বাঁকে।
সবুজের ভিড়ে যেন কেউ ছড়িয়ে দিয়েছে লাল রঙের উচ্ছ্বাস। মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা এক কৃষ্ণচূড়া গাছ তার ডালে ডালে ফুটে থাকা রক্তিম ফুল যেন পুরো পরিবেশকে করে তুলেছে জীবন্ত ও মায়াময়।
মেঘলা আবহাওয়ার মধ্যেও ফুলগুলোর উজ্জ্বলতা ছিল দৃষ্টিনন্দন। তবে এই সৌন্দর্য শুধু চোখেই ধরা দেয়নি, ছুঁয়ে গেছে মনের গভীরতাকেও।
কৃষ্ণচূড়ার সেই লাল রং হঠাৎ করে মনে করিয়ে দেয় বহু বছরের পুরোনো কিছু দৃশ্য—একটি বাড়ি, একটি উঠোন, আর শৈশবের নির্ভার দিনগুলো।
সেই বাড়ির উঠোনেও ছিল এমনই কৃষ্ণচূড়া গাছ। গ্রীষ্মের হাওয়ায় ঝরে পড়া লাল ফুলে ভরে যেত চারপাশ।
ছোটরা খেলায় মেতে উঠত, আর গাছের ছায়ায় বসে গল্প করতেন পরিবারের বড়রা। বাড়ির পাশের পুকুরপাড়—বিশেষ করে উত্তর-পশ্চিম কোণ—ছিল স্মৃতির এক অনন্য ভাণ্ডার।
কিন্তু সময়ের সঙ্গে বদলে যায় সবকিছু। দূরের নদী একসময় কাছে চলে আসে।
শুরু হয় ভাঙন। ধীরে ধীরে গ্রাস করে নেয় বসতভিটা। একসময় ছেড়ে যেতে হয় প্রিয় সেই বাড়ি। হারিয়ে যায় গাছ, উঠোন, আর শৈশবের চেনা দৃশ্যগুলো।
স্মৃতি রক্ষার তাগিদে কেটে ফেলা হয় কৃষ্ণচূড়াগাছও। এখন সেখানে কেবল নদীর জল, আর হারিয়ে যাওয়া দিনের প্রতিধ্বনি।
ভোলা রোডের সেই গাছটি আজ যেন আবার খুলে দিল স্মৃতির দরজা। এটি শুধু একটি গাছ নয়—এ যেন অতীতের সঙ্গে বর্তমানের এক সেতুবন্ধন।
প্রতিটি ফুল মনে করিয়ে দেয়, জায়গা হারালেও স্মৃতি হারায় না কখনো। যতদিন কৃষ্ণচূড়া ফুটবে, ততদিন বেঁচে থাকবে সেই হারানো বাড়ির গল্প।
এসআর