[email protected] শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারি ২০২৬
২ মাঘ ১৪৩২

পরিত্যক্ত প্লাস্টিক রিসাইক্লিং করে স্বাবলম্বী বানারীপাড়ার উদ্যোক্তা ইউনুস

বরিশাল জেলা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ ২:৫২ এএম

সংগৃহীত ছবি

মানুষের ফেলে দেওয়া পরিত্যক্ত প্লাস্টিক সামগ্রী সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াজাত করে স্বাবলম্বী হয়েছেন বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার উদ্যোক্তা মো. ইউনুস।

তার এই উদ্যোগে শুধু নিজেই লাভবান হননি, বরং এলাকার বেশ কয়েকজন বেকার নারী ও পুরুষের কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হয়েছে।

বানারীপাড়া পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের বন্দর বাজার সংলগ্ন বাইপাস সড়কের পাশে ইউনুস গড়ে তুলেছেন একটি ক্ষুদ্র রিসাইক্লিং কারখানা।

পরিবারে তার মা মাকছুদা বেগম ও ছোট ভাই খোকন—এই তিনজনের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালিত হয়ে আসছে।


এই কারখানা প্রতিষ্ঠার আগে জীবন সংগ্রামে মাকছুদা বেগম দীর্ঘ সময় বাজারে ঝাড়ুদারের কাজ করে সংসার চালিয়েছেন। সীমিত আয়ের মধ্যেও সততা, ধৈর্য ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে তিনি দুই সন্তানকে পাশে নিয়ে আজকের এই উদ্যোগের ভিত্তি গড়ে তুলেছেন।


মায়ের প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার নিদর্শন হিসেবে ইউনুস তার প্রতিষ্ঠানের নাম রেখেছেন ‘মেসার্স মাকছুদা এন্টারপ্রাইজ’। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে প্রতি মাসে লক্ষাধিক টাকা আয় করছেন তিনি।


ইউনুস জানান, ২০১০ সালে মাত্র ১০ হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে ফেরিওয়ালাদের কাছ থেকে পরিত্যক্ত প্লাস্টিকের বোতল সংগ্রহ করে ঢাকায় বিক্রির মাধ্যমে তার ব্যবসার যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তীতে ব্যবসার পরিধি বাড়লে নিজস্ব রিসাইক্লিং মেশিন স্থাপন করে প্লাস্টিক কেটে চিপ উৎপাদন শুরু করেন। বর্তমানে এসব রিসাইক্লিং পণ্য ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হচ্ছে।


সরেজমিনে দেখা গেছে, কারখানার সামনে বস্তাবন্দি করে রাখা রয়েছে সংগ্রহ করা প্লাস্টিক বোতল। মেশিনঘরের পাশে স্তূপ করে রাখা হয়েছে ভাঙনযোগ্য প্লাস্টিক সামগ্রী।

রিসাইক্লিং শেষে উৎপাদিত প্লাস্টিক চিপ রোদে শুকানো হচ্ছে খোলা জায়গায়।


প্রায় ১৪ থেকে ১৫ বছর ধরে এই কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন বলে জানান ইউনুস। তিনি বলেন, পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর প্লাস্টিক সামগ্রী পুনর্ব্যবহার উপযোগী করে তোলার মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি নতুন পণ্য তৈরির সম্ভাবনাও তৈরি হচ্ছে।


সরকারি সহায়তা ও পৃষ্ঠপোষকতার দাবি জানিয়ে ইউনুসের ছোট ভাই খোকন বলেন, প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পেলে এই উদ্যোগকে আরও বড় পরিসরে নেওয়া সম্ভব হবে। এতে স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান বাড়বে এবং বেকারত্ব হ্রাসের পাশাপাশি পরিবেশও সুরক্ষিত থাকবে।


স্থানীয় বাসিন্দা ও বরিশাল গ্লোবাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ইমরান আহমেদ বলেন, বাংলাদেশে প্লাস্টিক রিসাইক্লিং খাতে হাজারো প্রতিষ্ঠান থাকলেও পুনর্ব্যবহারের হার এখনও আশানুরূপ নয়। সে প্রেক্ষাপটে বানারীপাড়ার মতো একটি এলাকায় এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয় এবং অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ।


অন্যদিকে শিক্ষক ও পর্যটক হাসান আহমেদ সোহাগ বলেন, রিসাইক্লিং একটি বিশ্বস্বীকৃত পদ্ধতি হলেও বাংলাদেশে এটি এখনও সীমিত পরিসরে চলছে।

ইউনুসের মতো উদ্যোক্তারা পরিত্যক্ত সামগ্রী পুনরায় ব্যবহার উপযোগী করে তুলছেন, যা দেশের অর্থনীতি ও পরিবেশ—উভয়ের জন্যই ইতিবাচক। সরকারি সহায়তা পেলে বানারীপাড়ায় একটি পূর্ণাঙ্গ রিসাইক্লিং শিল্প গড়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে।

এসআর

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর