যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত বাংলাদেশের অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যুৎ কোম্পানি স্মিথ কোজেনারেশনের একটি সালিশি মামলায় তাঁদের বিরুদ্ধে এই পরোয়ানা জারি করা হয়। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার ইউএস ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের বিচারক কার্ল জে. নিকোলস মার্কিন মার্শাল সার্ভিসকে এই দুজনকে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেন। ল–৩৬০ এর প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে এবং দ্য ডেইলি স্টারও সংবাদটি প্রকাশ করেছে।
বিদ্যুৎ কোম্পানিটি বাংলাদেশের কাছ থেকে ৩১.৯ মিলিয়ন ডলারের ক্ষতিপূরণ চেয়ে মামলা দায়ের করে। গ্রেপ্তার এড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যারিল্যান্ডে বাংলাদেশ রাষ্ট্রদূতের বাসভবনে আশ্রয় নিয়েছেন সালেহউদ্দিন আহমেদ ও আহসান এইচ মনসুর।
গত ২১ অক্টোবর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভায় যোগ দিতে ওয়াশিংটন ডিসিতে গেছেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ ও গভর্নর আহসান এইচ মনসুরসহ সাত সদস্যের একটি সরকারি প্রতিনিধি দল।
বাংলাদেশি কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির বিরুদ্ধে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে আপিল করেছে। আপিলে দাবি করা হয়েছে, সালেহউদ্দিন আহমেদ ও আহসান এইচ মনসুর উচ্চ পর্যায়ের কূটনীতিক এবং তাঁরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ফৌজদারি ও দেওয়ানি মামলা থেকে দায়মুক্ত। এছাড়া আপিলে বিচারক নিকোলসের আদালতের রায়কে এখতিয়ার বহির্ভূত বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্মিথ কোজেনারেশন জানিয়েছে, সালেহউদ্দিন আহমেদ ও আহসান এইচ মনসুর আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন পেয়েছিলেন, তবে তাঁরা আদালতে উপস্থিত হননি। কোম্পানিটি আরও উল্লেখ করেছে, এই সপ্তাহে ওয়াশিংটন সফর হতে পারে তাঁদের জবানবন্দি নেওয়ার একমাত্র সুযোগ।
১৯৯৭ সালে স্মিথ কোজেনারেশন বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি করে, যা ১৯৯৯ সালে বাতিল করা হয়। কোম্পানিটি ওই বছরই আইসিসি ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দায়ের করে।
এসআর
মন্তব্য করুন: