পরিবেশগত সিদ্ধান্ত গ্রহণে নাগরিকদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে জাতীয় সংলাপ ‘কেমন পরিবেশ চাই?
বুধবার রাজধানীর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর সি মজুমদার অডিটোরিয়ামে বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্র (ক্যাপস), দ্য আর্থ সোসাইটি, মিশন গ্রিন বাংলাদেশ (এমজিবি) ও বাংলাদেশ রিভার ফাউন্ডেশনের যৌথ আয়োজনে এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।
এতে দেশের ৪০টিরও বেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, ৩৫টি জেলার প্রতিনিধি এবং ২৬টি এনজিও ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি সহ দেড় শতাধিক পরিবেশ সচেতন নাগরিক অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও ক্যাপস-এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ড. কামরুজ্জামান মজুমদার।
সংলাপে পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক ড. মো. সোলয়মান হায়দার বলেন, পরিবেশ রক্ষায় শুধু আইন নয়, নাগরিকদের দায়িত্বশীলতাও জরুরি। নাগরিক সচেতনতা ছাড়া সরকারি উদ্যোগ সফল করা কঠিন।
ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রফেসর ড. ফেরদৌসী বেগম বলেন, অন্য কারো অপেক্ষায় না থেকে এখনই পরিবেশ রক্ষায় কাজ শুরু করতে হবে। ছোট ছোট ব্যক্তিগত উদ্যোগ বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন দেশীয় প্রজাতির গাছ লাগানো ও সংরক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির সিথ্রিইআর-এর ডেপুটি ডিরেক্টর রউফা খানম বলেন, আমরা এমন একটি পরিবেশ চাই যেখানে মানুষ বুকভরে স্বচ্ছ বাতাস নিতে পারবে এবং চারপাশ হবে নিরাপদ।
এ সময় জীবন, প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষা জাতীয় কমিটির সমন্বয়ক ইবনুল সাঈদ রানা উন্নয়ন প্রকল্পে পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়নের ওপর গুরুত্ব দেন। দ্য আর্থ সোসাইটির নির্বাহী পরিচালক আনোয়ার হোসেন পরিবেশ আইনের যথাযথ বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ রিভার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মনির হোসেন দেশের নদীগুলোকে দখল ও দূষণমুক্ত করে পুনরুদ্ধারের দাবি জানান।
সংলাপে অক্সফাম ইন বাংলাদেশের প্রোগ্রাম অফিসার রুবাইয়া নাসরিন সেজুতি, বিইউপি’র সহকারী অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকচারার আশিকুর রহমান শমী, শিকড় আর্কিটেক্টস-এর এমডি নাজমুল সাকিব, বাংলাভিশনের সিনিয়র রিপোর্টার কেফায়েত শাকিল, ডাকসু সদস্য হেমা চাকমা, পরিবেশকর্মী হাসান ইউসুফসহ বিভিন্ন তরুণ পরিবেশবাদী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সংলাপে অংশগ্রহণকারীদের মতামত ও সুপারিশের ভিত্তিতে একটি “জনগণের পরিবেশ অগ্রাধিকার তালিকা” প্রস্তুত করা হয়, যা পরবর্তীতে সরকারের নীতিনির্ধারকদের কাছে উপস্থাপন করা হবে।
সংলাপ শেষে ইফতারের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা সংহতি প্রকাশ করেন।
এসআর
মন্তব্য করুন: