বিশেষ দিবস এলেই টেলিভিশন চ্যানেল ও ওটিটি প্ল্যাটফর্মগুলোতে থাকে জমজমাট আয়োজন।
ভালোবাসা দিবসকে ঘিরে প্রতিবছরই নাটক নির্মাণ ও প্রচারে বাড়তি তৎপরতা দেখা যায়। দর্শকরাও প্রিয় অভিনয়শিল্পীদের নতুন কাজ দেখার অপেক্ষায় থাকেন। তবে চলতি বছরে সেই চেনা ব্যস্ততা চোখে পড়েনি।
অন্যান্য বছরের তুলনায় এবারের ১৪ ফেব্রুয়ারি নাট্যাঙ্গনে ছিল বেশ নিরুৎসাহ পরিবেশ।
সংশ্লিষ্টদের মতে, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও নির্বাচনকেন্দ্রিক ব্যস্ততার প্রভাব পড়েছে বিনোদন অঙ্গনে। অনেক টিভি চ্যানেল বিশেষ নাটকের বদলে রাজনৈতিক অনুষ্ঠান প্রচারে গুরুত্ব দিয়েছে। যদিও কিছু নাটক ইউটিউব ও ওটিটিতে মুক্তি পেয়েছে, তবু সেগুলো ঘিরে প্রত্যাশিত আলোচনা তৈরি হয়নি। বেশ কয়েকটি প্রযোজনা মুক্তির ঘোষণা দিয়েও শেষ মুহূর্তে পিছিয়ে গেছে।
নির্মাতাদের ভাষ্য, একদিকে অনিশ্চিত পরিস্থিতি, অন্যদিকে স্পন্সরসংক্রান্ত জটিলতায় অনেকেই ঝুঁকি নিতে চাননি। তাদের যুক্তি—যে কোনো কাজই দর্শকের কাছে পৌঁছানোই মূল লক্ষ্য। দর্শক না দেখলে প্রযোজনার সার্থকতা থাকে না। ফলে অনেকে অপেক্ষার কৌশল নিয়েছেন।
এবার মুক্তি পাওয়া নাটকগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল ‘যে কথা হয়নি বলা’, যেখানে জুটি বেঁধেছেন ফারহান আহমেদ জোভান ও নাজনীন নীহা; এটি পরিচালনা করেছেন জাকারিয়া সৌখিন। ফ্ল্যাশ ফিকশন ‘টিফিন বক্স’ মুক্তি পেয়েছে চরকি প্ল্যাটফর্মে।
এ ছাড়া ‘মায়া বনের হরিণ’ নাটকে অভিনয় করেছেন নিলয় আলমগীর ও জান্নাতুল সুমাইয়া হিমি। বর্ষীয়ান শিল্পী আবুল হায়াত ও ডলি জহুর-কে নিয়ে নির্মিত টেলিফিল্ম ‘লাইফ ইজ বিউটিফুল’ প্রচার হয়েছে এটিএন বাংলা-তে। বিশেষ নাটক ‘লস্ট ইন ট্রান্সলেশন’ সম্প্রচার করেছে বাংলাভিশন।
‘বসন্ত এসে গেছে’ দেখানো হয়েছে বাংলাদেশ টেলিভিশন-এ, আর ‘বৃষ্টির ঘ্রাণ’ প্রচার হয়েছে মাছরাঙা টেলিভিশন-এ। এছাড়া বিভিন্ন ইউটিউব চ্যানেল ও প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে মুক্তি পেয়েছে আরও কয়েকটি নাটক।
নির্মাতাদের একাংশ মনে করেন, একসঙ্গে বহু কাজ মুক্তি পেলে উৎসবের আবহ তৈরি হয়। এবার সেই সমন্বিত আয়োজনের ঘাটতিই সবচেয়ে বেশি অনুভূত হয়েছে। তবে তারা আশাবাদী—ফেব্রুয়ারির বাকি সময়জুড়ে ধাপে ধাপে নাটক মুক্তি পেলে আলোচনা ফের জোরদার হতে পারে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, এবারের ভালোবাসা দিবসে নাট্যাঙ্গনে প্রত্যাশিত উচ্ছ্বাস না থাকলেও সামনে দিনগুলোতে পরিস্থিতি বদলাতে পারে—এমন আশা নিয়েই অপেক্ষায় আছেন সংশ্লিষ্টরা।
এসআর
মন্তব্য করুন: