[email protected] শুক্রবার, ২৯ আগস্ট ২০২৫
১৪ ভাদ্র ১৪৩২

ব্যালট নম্বর ‘৩২’ নিয়ে অভিনব প্রচারণায় ডাকসু নির্বাচনের নারী প্রার্থী রাফিয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৯ আগষ্ট ২০২৫ ৮:০০ পিএম

সংগৃহীত ছবি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে অভিনব প্রচারণা ও সাবলীল বক্তব্যের কারণে আলোচনায় উঠে এসেছেন আইন বিভাগের শিক্ষার্থী উম্মা উসওয়াতুন রাফিয়া, যিনি রাফিয়া খন্দকার নামেও পরিচিত।

২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের এই শিক্ষার্থী গত জুলাই আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কাছে পরিচিতি লাভ করেন।

বর্তমানে তিনি ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। গত ১৯ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থিতা ঘোষণা করে একই দিনে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন রাফিয়া। নির্বাচনী কমিশন ঘোষিত ব্যালটে তার নম্বর পড়েছে ৩২— আর এই সংখ্যাটিকেই সৃজনশীলভাবে ব্যবহার করছেন তিনি প্রচারণায়।

রাফিয়া বলেন, “ধানমন্ডি ৩২ নাম্বার রোড হয়তো অনেকের কাছে মন্দ স্মৃতির প্রতীক, কিন্তু ডাকসু নির্বাচনের ব্যালট নম্বর ৩২ তার সম্পূর্ণ উল্টো। এই নম্বর আমাকে ইতিবাচকভাবে প্রতিনিধিত্ব করছে।”

সম্প্রতি নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে ব্যালট নম্বর ও পদের নামসহ একটি ফটোকার্ড শেয়ার করে তিনি লিখেছেন,
“ধানমন্ডি ৩২ মন্দ হলেও ডাকসু সদস্যপদের ৩২ নম্বর ব্যালট একেবারেই উল্টো। তাই— ৯ তারিখ সারাদিন, ৩২-এ ভোট দিন।”

সংক্ষিপ্ত ইশতেহার, বড় প্রতিশ্রুতি

প্রচলিত দীর্ঘ ইশতেহারের পরিবর্তে রাফিয়া ঘোষণা করেছেন মাত্র দুটি স্পষ্ট লক্ষ্য—

১. শিক্ষক মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালু
প্রতিটি বিভাগ ও ইনস্টিটিউটে শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে গোপনীয়ভাবে শিক্ষক মূল্যায়নের একটি অনলাইন সিস্টেম চালুর উদ্যোগ নেবেন তিনি। প্রতি সেমিস্টারের আগে শিক্ষার্থীরা বিশেষ ওয়েবসাইটের মাধ্যমে মতামত দিতে পারবেন, যা সম্পূর্ণ কনফিডেনশিয়াল থাকবে।

২. অভিযোগ নিষ্পত্তিতে জবাবদিহি
বিশ্ববিদ্যালয়ে গঠিত তদন্ত ট্রাইব্যুনালগুলো দীর্ঘসূত্রতার কারণে প্রায়ই ঝুলে থাকে। এই সমস্যার সমাধানে তিনি চান— সেনেটে নির্বাচিত ছাত্র প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে ট্রাইব্যুনাল রিপোর্ট দেবে। গোপন তথ্য প্রকাশ না হলেও কতদিন ধরে অভিযোগ ঝুলে আছে, কতটুকু অগ্রগতি হয়েছে— এসব বিষয়ে জবাবদিহি বাধ্যতামূলক হবে। এছাড়া অভিযোগকারী যেন তার মামলার অগ্রগতি ও সম্ভাব্য সমাধানের সময়সীমা জানতে পারেন, সে ব্যবস্থাও থাকবে।

শিক্ষার্থীবান্ধব দৃষ্টিভঙ্গি

রাফিয়া মনে করেন, তার ইশতেহার হয়তো অনেকের কাছে ছোট মনে হতে পারে, তবে শিক্ষার্থীদের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তার ভাষায়, “যৌক্তিক যে কোনো দাবির পক্ষে আমি সবসময় থাকব। তবে এই দুইটি বিষয়ে এক্সক্লুসিভভাবে কাজ করার ইচ্ছা রাখি।”

তিনি ইতোমধ্যেই ডাকসুর জন্য একটি ওয়েবসাইট চালু করেছেন। সেখানে ‘আপনার প্রত্যাশা’ নামে একটি অপশন রাখা হয়েছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা সরাসরি তাদের মতামত ও দাবি জানাতে পারবেন।

নতুন প্রজন্মের এই তরুণ প্রার্থীর অভিনব প্রচারণা ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাড়া ফেলেছে এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

এসআর

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর