পবিত্র ঈদুল ফিতর সামনে রেখে দেশজুড়ে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।
পবিত্র ঈদুল ফিতর সামনে রেখে দেশজুড়ে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে
তবে এই আনন্দ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন প্রায় সাড়ে তিন লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক, যারা এখনো বেতন-ভাতা পাননি। শিক্ষকদের দাবি, কর্তৃপক্ষের সদিচ্ছার অভাবেই তারা এই সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।
ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) ব্যবস্থার মাধ্যমে শিক্ষকদের বেতন-ভাতা প্রদান শুরু হলেও বিলম্বের কারণে শিক্ষকরা ভোগান্তিতে পড়েছেন।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) জানিয়েছে, ২৭ মার্চের মধ্যে বেতন-ভাতা ব্যাংকে পাঠানোর চেষ্টা চলছে। তবে সে অর্থ হাতে পাওয়ার বিষয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
তথ্যমতে, জানুয়ারি মাসে ১ লাখ ৮৯ হাজার শিক্ষক ইএফটি’র মাধ্যমে বেতন পান। এরপর ধাপে ধাপে আরও শিক্ষকদের জানুয়ারি মাসের বেতন প্রদান করা হয়েছে।
তবে মার্চ শেষ হলেও ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন এবং ঈদ উৎসব ভাতা এখনো পাননি তারা। এমনকি ডিসেম্বরের বেতনও পাননি সাড়ে ১২ হাজার শিক্ষক-কর্মচারী।
বাংলাদেশ শিক্ষক ফোরামের সিনিয়র সহ-সভাপতি প্রভাষক মো. শান্ত আলী বলেন, "শিক্ষকদের বেতন-ভাতা প্রদানে মাউশি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবহেলা অত্যন্ত দুঃখজনক। সরকারের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও ২৩ তারিখের মধ্যে কেন বেতন-ভাতা দেওয়া হলো না, সেটাই বড় প্রশ্ন। এই অবহেলা শিক্ষকদের ঈদের আনন্দ ম্লান করে দিয়েছে।"
মাউশি বলছে, নতুন পদ্ধতির কারণে কিছু বিলম্ব হচ্ছে। ইএমআইএস সেলের তথ্য অনুযায়ী, অনেক শিক্ষকের নামের ভুল, সনদপত্র ও জাতীয় পরিচয়পত্রে অমিল থাকায় প্রক্রিয়াটি জটিল হয়ে পড়েছে। তবে ডট, কমা, হাইফেনের মতো ছোটখাটো ভুলগুলো সংশোধন করে বেতন ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মাউশি’র মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আজাদ খান বলেন, "প্রায় চার লাখ শিক্ষক-কর্মচারীর বেতন অনলাইনে প্রদান সহজ নয়। তথ্যে কিছু সমস্যা থাকলেও মানবিক বিবেচনায় আমরা বেতন প্রদানের চেষ্টা করছি। শিক্ষা মন্ত্রণালয় অনুমোদন দিয়েছে, এখন অর্থ মন্ত্রণালয় ও ব্যাংকের কাজ বাকি।"
শিক্ষকরা দ্রুত বেতন-ভাতা পাওয়ার আশা করছেন, তবে এরকম বিলম্ব ভবিষ্যতে যেন না হয়, সে ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হচ্ছে।
এসআর
মন্তব্য করুন: