[email protected] শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫
২০ চৈত্র ১৪৩১

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বহিষ্কৃতদের মধ্যে পাঁচজন বহিরাগত

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৯ মার্চ ২০২৫ ১২:৫২ এএম

ফাইল ছবি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সম্প্রতি জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে হামলার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ১২৮ জনকে বহিষ্কার করেছে।

তবে বহিষ্কৃতদের মধ্যে পাঁচজন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নন।

তাঁরা বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত, যার মধ্যে দুজন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের, একজন সরকারি বাংলা কলেজের শিক্ষার্থী এবং বাকি দুজনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অজ্ঞাত।

বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যানুসন্ধান কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে গতকাল সোমবার সিন্ডিকেট সভায় বহিষ্কারের এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আজ মঙ্গলবার এই সংক্রান্ত নামের তালিকা গণমাধ্যমের হাতে আসে।

তালিকা অনুযায়ী, বহিষ্কৃতদের মধ্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষার্থী ইব্রাহিম হোসাইন সানিম (জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সহসভাপতি) ও মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান আকাশ (ছাত্রলীগের সভাপতি) রয়েছেন।

সরকারি বাংলা কলেজের শিক্ষার্থী আক্তার হোসেন রুমনও এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত।

এছাড়া, রুবেল খান (পটুয়াখালীর কুয়াকাটা উপজেলা ছাত্রলীগের পদপ্রত্যাশী) ও রিজভী আহমেদ খোকা (বহিরাগত) নামের আরও দুজন রয়েছেন, তবে তাঁদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম তালিকায় উল্লেখ নেই।

এদিকে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রশ্ন তুলেছেন যে, তাঁদের প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কীভাবে নিতে পারে।

তাঁরা বলেন, অভিযুক্তরা হামলায় জড়িত থাকলেও এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনেরই উদ্যোগ নেওয়া উচিত।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাকছুদুল হক বলেন, ‘আমরা চাই দোষীদের বিচার হোক, তবে তা যেন সঠিক প্রক্রিয়ায় হয়। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি, যা দুঃখজনক।’

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মুনসী শামস উদ্দিন আহম্মদ বলেন, ‘সিন্ডিকেট সভায় যাঁরা হামলায় জড়িত ছিলেন, তাঁদের বহিষ্কার করা হয়েছে।

অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে চিঠি পাঠিয়ে বহিষ্কারের অনুরোধ জানানো হবে।’

এদিকে, ঘটনা অধিকতর তদন্তের জন্য সিন্ডিকেট সদস্য ড. তাজমেরী এস এ ইসলামকে প্রধান করে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এই কমিটি ১২৮ জনের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ, হল ও ইনস্টিটিউট থেকে তথ্য সংগ্রহ করে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশ করবে।

তালিকার ১১৯ নম্বর ঘরটি ফাঁকা থাকার বিষয়ে তথ্যানুসন্ধান কমিটির আহ্বায়ক ও আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কাজী মাহফুজুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করেছি, তবে এখনো কিছু তথ্য পাওয়া যায়নি।

তবে আমরা আশা করছি, তদন্তের মাধ্যমে আরও বিস্তারিত তথ্য বেরিয়ে আসবে।’

 

এসআর

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর