খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট)-এ ছাত্র রাজনীতি বন্ধের দাবিকে কেন্দ্র করে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
এতে কমপক্ষে ৫০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষে দেশীয় অস্ত্র ব্যবহারেরও অভিযোগ পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার বিকেলে এ সংঘর্ষ হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, কুয়েট ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের কমিটি গঠন নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে আলোচনা চলছিল। সোমবার ছাত্রদল ক্যাম্পাসে লিফলেট বিতরণ করলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। মঙ্গলবার সকালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা ছাত্র রাজনীতি বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন এবং উপাচার্যের কার্যালয় ঘেরাও করেন। এ সময় ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তাদের বাকবিতণ্ডা হয়।
দুপুরের দিকে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে মিছিল বের করলে ছাত্রদল নেতাকর্মীরা তাদের লক্ষ্য করে স্লোগান দিতে থাকে। একপর্যায়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়, যা ক্যাম্পাসের বাইরে ছড়িয়ে পড়ে। পরে আশপাশের এলাকা থেকে বিএনপি নেতাকর্মীরা ছাত্রদলের পক্ষ নেয়, আর সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ছাত্রশিবিরের কর্মীরা যোগ দেয়, ফলে সংঘর্ষ ভয়াবহ রূপ নেয়।
দুপুর দুইটার দিকে কুয়েট পকেট গেটের বাইরে এক শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। এরপর সাধারণ শিক্ষার্থী, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও ছাত্রশিবির একত্রিত হয়ে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের ধাওয়া দেয়। সংঘর্ষ চলে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত। আহতদের মধ্যে অনেককেই ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। আহতদের কুয়েটের মেডিকেল সেন্টারসহ আশপাশের ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
কুয়েটের একাধিক শিক্ষক জানিয়েছেন, ছাত্রদল ক্যাম্পাসে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছিল, আর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও ছাত্রশিবির এর বিরুদ্ধে জনমত গঠনের চেষ্টা করছিল। মূলত এই বিরোধ থেকেই সংঘর্ষের সূত্রপাত।
কুয়েট সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের এক শিক্ষার্থী বলেন, “ছাত্র রাজনীতি বন্ধের দাবি নিয়ে আমরা ভিসির কাছে গেলে ছাত্রদলের কর্মীরা আমাদের হুমকি দেয় এবং আমাদের মিছিলে হামলা চালায়। পরে আমরা তাদের প্রতিরোধ করেছি।”
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের খুলনা জেলা মুখপাত্র মিরাজুল ইসলাম ইমন বলেন, “বিনা উস্কানিতে ছাত্রদল হামলা চালিয়ে আমাদের অনেক কর্মীকে আহত করেছে।”
অন্যদিকে, খুলনা মহানগর ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক ইশতিয়াক আহমেদ ইশতি দাবি করেন, “ছাত্রশিবির সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালালে ছাত্রদল প্রতিরোধ করে।”
তবে মহানগর ছাত্রশিবিরের সভাপতি আরাফাত হোসাইন মিলন বলেন, “এই ঘটনায় ছাত্রশিবিরের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রদল ও বিএনপি নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়েছে।”
সংঘর্ষের পর সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, র্যাব ও পুলিশ পুরো এলাকা ঘিরে রেখেছে। খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার নাজমুল হাসান রাজীব জানিয়েছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।
খানজাহান আলী থানার ওসি মো. কবির হোসেন বলেন, “ঘটনাস্থল থেকে পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে।”
এসআর
মন্তব্য করুন: