পবিত্র মাহে রমজান আত্মশুদ্ধি, সংযম ও সহমর্মিতার মাস।
এ মাসে রোজা পালনের পাশাপাশি ইফতারকে ঘিরে সবার মধ্যে তৈরি হয় বিশেষ আনন্দ ও উৎসাহ। তবে সমাজের অনেক সুবিধাবঞ্চিত শিশুর পক্ষে সেই আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার সুযোগ সবসময় হয় না।
এমন শিশুদের মুখে হাসি ফোটাতে ব্যতিক্রমী ইফতার আয়োজন করেছে সিআরসি (কাম ফর রোড চাইল্ড) গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়( গোবিপ্রবি শাখা)।
সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরে সমাজের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা ও মানসিক বিকাশে কাজ করে আসছে।
শিশুদের নিয়ে নিয়মিত পাঠ কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি বিভিন্ন জাতীয় দিবসে খেলাধুলা, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, পুরস্কার বিতরণসহ নানা আয়োজন করে থাকে তারা। এছাড়া শীত মৌসুম ও ঈদকে কেন্দ্র করে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মাঝে বস্ত্র বিতরণও করা হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় পবিত্র রমজান মাসে প্রতিবছরের মতো এবারও শিশুদের জন্য ইফতারের আয়োজন করা হয়। গোপালগঞ্জ জেলার মান্দারতলার গুচ্ছগ্রামে প্রায় ১২০ জনের বেশি শিশুকে নিয়ে এ ইফতার কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। আগে থেকেই আয়োজনের কথা জানানো হওয়ায় শিশুরা দিনটি ঘিরে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিল।
সংগঠনের সদস্যরা সেখানে পৌঁছালে শিশুরা তাদের ঘিরে ধরে নানা প্রশ্ন করতে থাকে। এ সময় একদল শিক্ষার্থী শিশুদের জন্য ইফতার প্রস্তুত করতে ব্যস্ত থাকেন, অন্যরা শিশুদের সঙ্গে খেলাধুলা ও আড্ডায় মেতে ওঠেন।
ইফতার বিতরণের সময় শিশুদের মধ্যে ছিল ভিন্নরকম উচ্ছ্বাস। তারা একে অপরের প্লেটের দিকে খেয়াল রাখছিল—কারও প্লেটে যেন কিছু কম না পড়ে। সাধারণ এই ইফতার আয়োজন যে শিশুদের এতটা আনন্দ দিতে পারে, তা উপস্থিত না থাকলে বোঝা কঠিন। ধর্মীয় বিভেদ ভুলে বিভিন্ন ধর্মের শিশুরাও এ আয়োজনে অংশ নেয়।
সংগঠনের সদস্যরা সারাদিন রোজা রেখে ক্লাস শেষ করে ক্লান্ত শরীর নিয়েও শিশুদের জন্য কাজ করেন। শিশুদের হাসিমুখই তাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি বলে জানান তারা।
তাদের প্রত্যাশা, একদিন এই শিশুরাও বড় হয়ে সমাজের জন্য কাজ করবে।
আয়োজন সম্পর্কে সিআরসি গোবিপ্রবি শাখার সভাপতি রিজুওয়ান বলেন, “সুবিধাবঞ্চিত প্রায় ১২০ থেকে ১৫০ জন শিশুর সঙ্গে একসাথে ইফতার করার এই মুহূর্ত আমাদের জন্য খুবই আবেগঘন ও অনুপ্রেরণাদায়ক।
শিশুদের হাসিমুখই আমাদের এই আয়োজনকে অর্থবহ করে তুলেছে। ছোট এই উদ্যোগের মাধ্যমে তাদের সঙ্গে ভালোবাসা ও সহমর্মিতা ভাগ করে নিতে পারাটাই আমাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সজিব বলেন, এটি সিআরসির বাৎসরিক কর্মসূচির একটি অংশ। প্রতি বছর রমজান মাসে মান্দারতলা গুচ্ছগ্রামের শিশুদের নিয়ে আমরা এই আয়োজন করি। খেলাধুলা ও ইফতারের মাধ্যমে দিনটি শিশুদের সঙ্গে আনন্দঘনভাবে কাটানোই আমাদের লক্ষ্য।
এসআর
মন্তব্য করুন: