রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (রামেবি) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. জাওয়াদুল হকের বিরুদ্ধে অবকাঠামো নির্মাণকাজে কমিশন দাবির অভিযোগ ওঠার পর তাকে অপসারণের দাবি জোরালো হয়েছে।
বুধবার সকালে রাজশাহী নগরের সাহেববাজার জিরোপয়েন্টে আয়োজিত এক মানববন্ধন থেকে ‘সচেতন রাজশাহীবাসী’ ব্যানারে অংশগ্রহণকারীরা তিন দিনের আল্টিমেটাম ঘোষণা করেন।
সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসে অবকাঠামো নির্মাণের জন্য ছয়টি প্যাকেজে প্রায় ৭৭৭ কোটি টাকার দরপত্র আহ্বান করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, কাজ পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে ঠিকাদারদের কাছ থেকে ৯ শতাংশ কমিশন চাওয়া হয়েছে।
জেনিট কর্পোরেশন নামের একটি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী আতাউর রহমান টিপু দাবি করেন, দরপত্র প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই তাকে কাজ দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল এবং বিনিময়ে ৯ শতাংশ কমিশন দাবি করা হয়। বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
মানববন্ধনে বক্তব্য দিতে গিয়ে জননেতা আতাউর রহমান স্মৃতি পরিষদের সভাপতি সাইদুর রহমান বলেন, আগামী তিন দিনের মধ্যে উপাচার্যকে অপসারণ করা না হলে তার কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই বিভিন্ন অনিয়মের সঙ্গে ভিসির নাম জড়িয়েছে। ক্যাম্পাসের গাছ কাটা ও বিক্রিসহ নানা বিষয়ে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) রাজশাহী শাখার সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা মামুন তার বক্তব্যে বলেন, অতীতেও বিভিন্ন দায়িত্বে থাকাকালে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল।
বর্তমানে টেন্ডার ও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতির অভিযোগ সামনে এসেছে। এসবের সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি।
কর্মসূচিতে বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান আলী বরজাহান, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ, আসলাম-উদ-দৌলা, সালাহউদ্দিন মিন্টু, শফিকুর রহমানসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
অন্যদিকে, একই দিন সকালে নিজের দপ্তরে সংবাদ সম্মেলন করে উপাচার্য অধ্যাপক ডা. জাওয়াদুল হক তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেন।
তিনি বলেন, যেসব প্রতিষ্ঠান অভিযোগ তুলেছে, তারা এখনো বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো প্রকল্পে কাজ করেনি। নিয়ম মেনেই সব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলে দাবি করে তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে রাজশাহীতে উত্তেজনা বিরাজ করছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ না এলে আন্দোলন আরও জোরদার হতে পারে বলে মানববন্ধন থেকে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
এসআর
মন্তব্য করুন: