[email protected] মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬
১৮ ফাল্গুন ১৪৩২

সাইটেশন জালিয়াতির অভিযোগে পবিপ্রবির উপ-উপাচার্য পদ নিয়ে বিতর্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২ মার্চ ২০২৬ ১১:৫০ পিএম

সংগৃহীত ছবি

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) উপ-উপাচার্য ও কীটতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. এস এম হেমায়েত জাহানের বিরুদ্ধে গবেষণা সাইটেশন সংখ্যা কৃত্রিমভাবে বাড়ানোর অভিযোগ উঠেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, উপ-উপাচার্য পদে নিয়োগের আগে তার গুগল স্কলার প্রোফাইলে বিপুল সংখ্যক সাইটেশন দেখা যায়, যা প্রায় দুই হাজারের কাছাকাছি পৌঁছেছিল।

অভিযোগ রয়েছে, ওই সময় অন্য গবেষকদের প্রবন্ধ তার প্রোফাইলে যুক্ত ছিল। তবে বর্তমানে তার সক্রিয় প্রোফাইলে সাইটেশন সংখ্যা ৩২৬ দেখাচ্ছে। পূর্বের প্রোফাইলটি আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।


গবেষণা মূল্যায়নে সাইটেশন একটি গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত হয়। শিক্ষক নিয়োগ, পদোন্নতি কিংবা প্রশাসনিক দায়িত্ব প্রদানের ক্ষেত্রেও এটি প্রভাব ফেলে।

এ কারণে সাইটেশন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ একাডেমিক অঙ্গনে নতুন নয়। জানা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে অন্য একটি কৃষিভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক প্রশাসকের বিরুদ্ধে অনুরূপ অভিযোগ প্রকাশের পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। এরপরই ড. হেমায়েত জাহানের প্রোফাইলে থাকা কিছু প্রবন্ধ সরানো হয় বলে দাবি করছেন সংশ্লিষ্টরা।


তথ্য অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০২৪ সালের জুলাই-পরবর্তী সময়ের প্রেক্ষাপটে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রশাসনিক পদে নিয়োগে গবেষণা প্রোফাইলকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। সেই সময় ড. হেমায়েত জাহানের গুগল স্কলার প্রোফাইলে ২৩ সেপ্টেম্বর তারিখে ১,৯৬০ সাইটেশন দেখা যায় বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। পরবর্তীতে ২৭ অক্টোবর তিনি উপ-উপাচার্য পদে নিয়োগ পান।


অভিযোগ রয়েছে, নামের মিল থাকা বিদেশি এক গবেষকের একাধিক প্রবন্ধ তার প্রোফাইলে যুক্ত হয়েছিল। গুগল স্কলারে প্রোফাইল ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট গবেষক নিজেই নিয়ন্ত্রণ করেন এবং চাইলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রবন্ধ যুক্ত হওয়ার সুবিধাও চালু রাখা যায়।


এ বিষয়ে জানতে চাইলে ড. হেমায়েত জাহান বলেন, “গুগল স্কলারের স্বয়ংক্রিয় সংযোজন ব্যবস্থার কারণে কিছু আর্টিকেল যুক্ত হয়ে থাকতে পারে। পরে বিষয়টি নজরে এলে তা সংশোধন করা হয়েছে।

তিনি আরও দাবি করেন, দীর্ঘ সময় প্রোফাইল পর্যবেক্ষণ না করায় এ ধরনের সংযোজন তার নজরে আসেনি।
বাংলাদেশের একটি কৃষিভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অধ্যাপক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে প্রবন্ধ যুক্ত হলেও গবেষক লগইন করলে তা যাচাইয়ের সুযোগ থাকে। সচেতনভাবে তা অপসারণ না করলে দায় এড়ানো কঠিন। প্রমাণ মিললে গুগল স্কলার কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট আইডি স্থগিতও করতে পারে।


অন্যদিকে, দেশের এক জ্যেষ্ঠ কৃষি গবেষক মন্তব্য করেন, অল্প সময়ে অস্বাভাবিক হারে সাইটেশন বৃদ্ধির বিষয়টি স্বাভাবিক নয়। এ ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত এবং প্রশাসনিক পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে গবেষণা প্রোফাইল যথাযথভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।


উল্লেখ্য, ড. হেমায়েত জাহান অতীতেও নিয়োগ-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিতর্কে আলোচনায় এসেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদানের প্রক্রিয়া এবং পরবর্তী প্রশাসনিক দায়িত্ব গ্রহণ নিয়েও একসময় প্রশ্ন উঠেছিল। এছাড়া বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠনের রাজনীতিতেও তিনি সক্রিয় ছিলেন বলে জানা যায়।

এসআর

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর