[email protected] সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬
১৭ ফাল্গুন ১৪৩২

লাল ইটের ক্যাম্পাসে রমজানের আবহ, একসাথে ইফতার হাবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের

হাবিপ্রবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১ মার্চ ২০২৬ ১০:৫০ এএম

সংগৃহীত ছবি

পবিত্র রমজানে দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (হাবিপ্রবি) ক্যাম্পাসে তৈরি হয়েছে ভিন্ন এক আবহ।

বিকেলের শেষ আলো যখন লাল ইটের ভবন ছুঁয়ে যায়, তখন আবাসিক হলের প্রাঙ্গণ, সবুজ মাঠ কিংবা গাছতলায় ছোট ছোট দলে বসে শিক্ষার্থীরা ইফতারের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন।

ক্যাম্পাসের এই আয়োজনের বিশেষ দিক হলো—এখানে নেই কোনো ভেদাভেদ। সিনিয়র-জুনিয়র, বর্তমান-সাবেক শিক্ষার্থী—সবাই একসঙ্গে বসে ভাগাভাগি করেন ইফতারের খাবার।

অনেক সময় ভিন্ন ধর্মাবলম্বী বন্ধুরাও সৌহার্দ্যের অংশ হয়ে যোগ দেন, যা পারস্পরিক সম্প্রীতির দৃষ্টান্ত হয়ে ওঠে। বিভিন্ন বিভাগ, ব্যাচ, জেলা সমিতি, সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোও আলাদা করে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করে থাকে।


বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ফটকের পাশের দোকানগুলোতে ইফতারের আগে দেখা যায় বাড়তি ব্যস্ততা। কেউ খেজুর ও ফল কিনছেন, কেউ শরবত বা ভাজাপোড়া সংগ্রহ করছেন।

একই সময়ে কেন্দ্রীয় মাঠ ও অন্যান্য খোলা জায়গায় শিক্ষার্থীরা ইফতার সাজাতে ব্যস্ত—কেউ পত্রিকা বিছাচ্ছেন, কেউ প্লাস্টিকের গ্লাসে শরবত ঢালছেন।

রমজান মাসে এসব মাঠ যেন কেবল খেলাধুলার স্থান নয়, বরং পরিণত হয় মিলনমেলায়।

হলের ছাদ থেকে শুরু করে বিভাগীয় সেমিনার কক্ষ—সবখানেই দেখা যায় উৎসবমুখর পরিবেশ।


রমজানের বড় একটি সময় বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস-পরীক্ষা চলমান থাকায় অনেক শিক্ষার্থী হল বা মেসে অবস্থান করেন।

পরিবারের সঙ্গে ইফতার করার অভাব থাকলেও বন্ধুদের সঙ্গে এই সম্মিলিত আয়োজন সেই শূন্যতা অনেকটাই পূরণ করে।


মাগরিবের আজান শোনা মাত্রই চারদিকে নেমে আসে প্রশান্ত পরিবেশ। সবাই একসঙ্গে ইফতার শুরু করেন। এরপর কেউ নামাজে অংশ নেন, কেউ আবার বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডায় সময় কাটান।
শিক্ষার্থীদের কাছে ক্যাম্পাসের এই ইফতার শুধু ধর্মীয় আচার নয়; বরং এটি হয়ে ওঠে বন্ধুত্ব, সহমর্মিতা ও একাত্মতার এক স্মরণীয় অভিজ্ঞতা।

এসআর

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর