পবিত্র রমজান মুসলিম উম্মাহর জন্য আত্মশুদ্ধি, সংযম ও তাকওয়া অর্জনের মাস।
এ সময় ধর্মীয় অনুশাসনের পাশাপাশি সহমর্মিতা, মানবিকতা ও পারস্পরিক সৌহার্দ্যের চর্চা দৃশ্যমান হয়ে ওঠে।
রমজান শুরু হলে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেও তৈরি হয় ভিন্ন এক আবহ যেখানে ধর্মীয় বৈচিত্র্যের মধ্যেও সম্প্রীতির বন্ধন আরও দৃঢ় হয়।
রমজানের সূচনালগ্ন থেকেই ক্যাম্পাসজুড়ে দেখা যায় এক ধরনের প্রাণচাঞ্চল্য। ইফতার আয়োজন, সেহরির প্রস্তুতি কিংবা সন্ধ্যার আযানের মুহূর্ত—সবকিছু মিলিয়ে পরিবেশে যুক্ত হয় ভিন্ন মাত্রা।
এই আবহ শুধু মুসলিম শিক্ষার্থীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; অমুসলিম শিক্ষার্থীদের মাঝেও লক্ষ্য করা যায় আন্তরিক আগ্রহ ও সম্মানবোধ।
বিভিন্ন অনানুষ্ঠানিক ইফতার আয়োজনে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে শিক্ষার্থীরা একসঙ্গে অংশ নেন, যা পারস্পরিক বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করে।
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী ডওয়াংনুং মার্মা বলেন, রমজান মাসে ভোরের ব্যস্ততা, বাজারের কোলাহল ও সন্ধ্যার ইফতারের মুহূর্ত তার কাছে বিশেষভাবে উপভোগ্য। সবার একসঙ্গে ইফতার করা এবং বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো তাকে ভিন্নরকম আনন্দ দেয়। তার ভাষ্যে, রমজান কেবল রোজা পালনের সময় নয়; বরং এটি আনন্দ ভাগাভাগি করারও উপলক্ষ।
অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী বীরেন্দ্র বড়ুয়া মনে করেন, রমজান সংযম ও মানবিকতার শিক্ষা দেয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে হলের বন্ধুদের সঙ্গে সেহরি ও ইফতারে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা তাকে আবেগাপ্লুত করে। অমুসলিম হয়েও এই মাসের তাৎপর্য কাছ থেকে দেখার সুযোগকে তিনি নতুন অভিজ্ঞতা হিসেবে দেখছেন।
একাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের জয়ন্ত কর্মকারের মতে, ঈদ শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়; এটি মানুষের পারস্পরিক সম্পর্কেরও প্রতিফলন। তিনি বলেন, রোজা কেবল না খেয়ে থাকা নয়—এটি ধৈর্য ও আত্মসংযমের চর্চা। ঈদের আনন্দ কাছ থেকে দেখলে ভিন্ন বিশ্বাসের ঊর্ধ্বে মানবিক সম্পর্কই বড় হয়ে ওঠে।
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ইতি রাণী সরকার জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন ধর্মের শিক্ষার্থীরা সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে একসঙ্গে পড়াশোনা করছেন। রমজান মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এ বিষয়ে সনাতনী শিক্ষার্থীরাও পূর্ণ সম্মান প্রদর্শন করেন। তার মতে, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহাবস্থানই একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে প্রকৃত অর্থে সমৃদ্ধ করে তোলে।
সব মিলিয়ে, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে রমজান শুধু ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি বহুধর্মীয় সহাবস্থান ও সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবেও প্রতিভাত হচ্ছে।
এসআর
মন্তব্য করুন: