কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত ‘ফটো কনটেস্ট ২০২৫’-এর পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হায়দার আলী।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল হাকিম এবং ছাত্র পরামর্শক ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা ও সভাপতিত্ব করেন প্রতিযোগিতার আহ্বায়ক মো. সাদেকুজ্জামান।
আয়োজক সূত্রে জানা যায়, প্রতিযোগিতায় মোট ২৫৬ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন।
দুই ধাপে মূল্যায়নের মাধ্যমে ১৫ জনকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়- একটি ধাপ ছিল অনলাইন প্রতিক্রিয়া (লাইক-কমেন্ট) ভিত্তিক এবং অন্যটি জুরি বোর্ডের চূড়ান্ত মূল্যায়ন। নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে বিচারক প্যানেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ কেউ ছিলেন না।
ফলাফলে প্রথম স্থান অর্জন করেন নৃবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৯–২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী শারমিন আক্তার লাকি। দ্বিতীয় হন সিএসই বিভাগের ২০১৭–১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী নূরনবী নাঈম এবং তৃতীয় স্থান পান আইন বিভাগের ২০২১–২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সাজ্জাদ হোসেন।
প্রথম স্থানাধিকারীকে ৮ হাজার টাকা, ক্রেস্ট ও সনদ; দ্বিতীয় স্থানাধিকারীকে ৬ হাজার টাকা, ক্রেস্ট ও সনদ; এবং তৃতীয় স্থানাধিকারীকে ৪ হাজার টাকা, ক্রেস্ট ও সনদ প্রদান করা হয়। এছাড়া চতুর্থ থেকে পঞ্চদশ স্থান পর্যন্ত বিজয়ীদের সনদ দেওয়া হয়েছে।
প্রথম হওয়া শারমিন আক্তার লাকি বলেন, ফলাফল ঘোষণার আগে কিছুটা অনিশ্চয়তায় ছিলেন তিনি। ছবিটি সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল বলেও জানান। অনলাইনে কিছু বিভ্রান্তিকর প্রতিক্রিয়া থাকলেও শেষ পর্যন্ত স্বীকৃতি পেয়ে তিনি আনন্দিত।
প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল হাকিম বলেন, সৎ উদ্দেশ্যে করা কাজ ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাঁর মতে, কোনো ছবি যদি সমাজের বাস্তবতা তুলে ধরে কিংবা মানবিক বার্তা পৌঁছে দেয়, তবে সেটি তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে।
কেবল জনপ্রিয়তার জন্য নয়, দায়িত্বশীল মনোভাব নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হায়দার আলী বলেন, সৃজনশীল দৃষ্টিভঙ্গি পরিচিত স্থানকেও নতুনভাবে উপস্থাপন করতে পারে।
প্রযুক্তির উন্নয়নে এখন ছবি তোলা সহজ হলেও ছবির ভাব ও বার্তাই মূল বিষয়—এ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, একটি শক্তিশালী ছবি সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের অনুপ্রেরণা জোগাতে পারে।
আহ্বায়ক মো. সাদেকুজ্জামান জানান, প্রতিযোগিতাটি শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল চর্চা ও সুস্থ বিনোদনের অংশ হিসেবে আয়োজন করা হয়েছে। নির্বাচিত ১৫টি ছবি বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বরে প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হয়।
ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
উল্লেখ্য, গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১০ দিনব্যাপী এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
এসআর
মন্তব্য করুন: