[email protected] রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
২৬ মাঘ ১৪৩২

এসইউবিতে ২৪ তম এশিয়ান বায়োএথিক্স সম্মেলন সম্পন্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১১:৪৪ এএম

সংগৃহীত ছবি

স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশে (এসইউবি)  গত ৫ থেকে ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত তিন দিনব্যাপী ২৪তম এশিয়ান বায়োএথিক্স সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশে (এসইউবি)  গত ৫ থেকে ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত তিন দিনব্যাপী ২৪তম এশিয়ান বায়োএথিক্স সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে

“জাতি-রাষ্ট্র গঠনে নৈতিকতার ভূমিকা” এই প্রতিপাদ্যে আয়োজিত আন্তর্জাতিক এ সম্মেলনটি বাংলাদেশ বায়োএথিক্স সোসাইটি ও এশিয়ান বায়োএথিক্স অ্যাসোসিয়েশনের যৌথ উদ্যোগে এবং এসইউবি  ও ইউবিওস এথিক্স ইনস্টিটিউট (নিউজিল্যান্ড, জাপান ও থাইল্যান্ড)-এর সহযোগিতায় আয়োজন করা হয়।


সম্মেলনে ১৩ জন বিদেশি প্রতিনিধি ছাড়াও নীতিনির্ধারক, গবেষক, চিকিৎসক, পরিবেশবিদ, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীসহ প্রায় দুই শতাধিক অংশগ্রহণকারী উপস্থিত ছিলেন।


৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন অধ্যাপক ড. ড্যারিল ম্যসার -প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি, আমেরিকান ইউনিভার্সিটি অব সোভেরিন নেশনস (যুক্তরাষ্ট্র) ও সচিব, এশিয়ান বায়োএথিক্স অ্যাসোসিয়েশন; স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আখতার হোসেন খান,  বাংলাদেশ মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিলের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সায়েবা আখতার। 


উদ্বোধনী অধিবেশনে বক্তারা বলেন, টেকসই রাষ্ট্র গঠনে নৈতিকতা শুধু নীতিগত আলোচনার বিষয় নয়; বরং বিজ্ঞান, স্বাস্থ্য, পরিবেশ ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের প্রতিটি স্তরে এর প্রাসঙ্গিকতা রয়েছে।


৭ ফেব্রুয়ারি সম্মেলনের সমাপনী অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।

এতে প্রধান অতিথি ছিলেন স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতার হোসেন খান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান ড. হালিদা হানুম আখতার।


সমাপনী বক্তব্যে অধ্যাপক ড. আখতার হোসেন খান বলেন, আধুনিক রাষ্ট্রের সাফল্য কেবল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বা প্রযুক্তিগত উন্নয়নের মাধ্যমে নির্ধারিত হয় না।

মানব মর্যাদা রক্ষা, পরিবেশ সংরক্ষণ, বিজ্ঞানচর্চায় দায়বদ্ধতা এবং প্রজন্মগত ন্যায়ের বিষয়গুলোই আজ টেকসই উন্নয়নের মূল মানদণ্ড। জলবায়ু পরিবর্তন ও দ্রুত প্রযুক্তিগত অগ্রগতির যুগে নৈতিকতাভিত্তিক শাসন ব্যবস্থাই দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের পথ দেখাতে পারে।

তিনি আরও বলেন, মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্যে বাংলাদেশ অগ্রগতি অর্জন করলেও স্বাস্থ্যসেবায় সমতা ও অবহিত সম্মতির বিষয়টি এখন বড় নৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।
সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন অধ্যাপক ড. শামিমা পারভীন লাস্কার।

তিনি বলেন, বায়োএথিক্স গবেষণা ও নীতিনির্ধারণের মধ্যে কার্যকর সংযোগ তৈরি করে। জলবায়ু সংকট, মহামারি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, জৈবপ্রযুক্তি, যুদ্ধ, অভিবাসন ও সামাজিক বৈষম্যের মতো বৈশ্বিক ইস্যুতে সিদ্ধান্ত গ্রহণে বায়োএথিক্স একটি গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করে।


উল্লেখ্য, বাংলাদেশ বায়োএথিক্স সোসাইটি ২০০৯ সালে ইউনেস্কোর পৃষ্ঠপোষকতায় অধ্যাপক ড. শামিমা পি. লাস্কার ও অধ্যাপক আরিফ হোসেনের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি দেশের প্রথম ও একমাত্র বায়োএথিক্সভিত্তিক সংগঠন, যা দুর্নীতি প্রতিরোধ, মানবাধিকার সংরক্ষণ ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নৈতিক চর্চা প্রসারে কাজ করে যাচ্ছে।


আয়োজকদের মতে, এই সম্মেলনের সফল আয়োজন স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের একাডেমিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক সংযোগ এবং নীতিনির্ভর গবেষণা ও আলোচনায় সক্রিয় ভূমিকার একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত।

এসআর

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর