[email protected] রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
২৫ মাঘ ১৪৩২

শিক্ষা আইন–২০২৬ নিয়ে প্রায় হাজার শিক্ষকের শঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ৭:৪৭ পিএম

সংগৃহীত ছবি

শিক্ষা আইন–২০২৬-এর খসড়া প্রকাশ এবং তা দ্রুত কার্যকর করার উদ্যোগ নিয়ে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় এক হাজার শিক্ষক উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

তাদের মতে, বর্তমান নির্বাচনমুখী প্রেক্ষাপটে অন্তর্বর্তী সরকারের অগ্রাধিকার হওয়া উচিত একটি গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের প্রস্তুতি নিশ্চিত করা।


শিক্ষকদের দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, এই সময় গুরুত্বপূর্ণ একটি শিক্ষা আইন তাড়াহুড়ো করে বাস্তবায়নের উদ্যোগ স্বাভাবিকভাবেই নানা প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। তারা মনে করেন, এ ধরনের মৌলিক আইন প্রণয়নের আগে আরও বিস্তৃত আলোচনা ও মতামত গ্রহণ প্রয়োজন।


বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, প্রস্তাবিত আইনে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বৈষম্যহীন শিক্ষার কথা বলা হলেও সেখানে কিছু অস্পষ্ট শব্দ ও উন্মুক্ত ধারা রাখা হয়েছে, যা ভবিষ্যতে বিভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করা হতে পারে। এতে শিক্ষাব্যবস্থায় বিভ্রান্তি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন শিক্ষকরা।


তাদের মতে, শিক্ষাক্রম প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অভিভাবকদের ধর্মীয় বিশ্বাস, সামাজিক বাস্তবতা এবং নৈতিক মূল্যবোধের প্রতি যথাযথ সম্মান দেখানো জরুরি। আন্তর্জাতিক মান অনুসরণের বিষয়টি ইতিবাচক হলেও তা যেন দেশের সংবিধান, সংস্কৃতি এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়—এই দাবি জানান তারা।


একই সঙ্গে ‘বিশেষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান’, ‘সুবিধাবঞ্চিত’ এবং ‘বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন’—এ ধরনের পরিভাষার স্পষ্ট ও নির্ভুল সংজ্ঞা নির্ধারণের প্রয়োজনীয়তার কথাও বিবৃতিতে তুলে ধরা হয়। এসব সংজ্ঞা পরিষ্কার না থাকলে আইন প্রয়োগে জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।


শিক্ষকরা আরও বলেন, শিক্ষা আইন কোনো আন্তর্জাতিক মতাদর্শিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের মাধ্যম হওয়া উচিত নয়; বরং এটি দেশের জনগণের বিশ্বাস, সংস্কৃতি ও বাস্তবতার প্রতিফলন হওয়া প্রয়োজন। এসব বিষয় পরিষ্কার না করে আইন কার্যকরের উদ্যোগ গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও মত দেন তারা।


এই যৌথ বিবৃতিতে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক, সহকারী অধ্যাপক, প্রভাষকসহ বিভিন্ন স্তরের শতাধিক শিক্ষক স্বাক্ষর করেছেন।

এসআর

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর