কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) আবাসিক হলগুলোতে ডাইনিং ব্যবস্থার প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ ক্রমশ কমছে।
মানহীন ও প্রতিনিয়ত একই খাবার খেয়ে শিক্ষার্থীরা একঘেয়ে হয়ে পড়ছেন।
পর্যালোচনায় দেখা গেছে, পাঁচটি আবাসিক হলে বসবাসকারী শিক্ষার্থীদের প্রায় ৭২ দশমিক ৭৩ শতাংশ নিয়মিতভাবে হলের খাবার না খেয়ে বাইরের খাবারের ওপর নির্ভর করছেন।
এতে তাদের মাসিক ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয়–২৪ হলে মোট ৫৮০ জন আবাসিক শিক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র প্রায় ১২০ জন হল ডাইনিংয়ে নিয়মিত খাবার গ্রহণ করেন। বাকি প্রায় ৪৬০ জন শিক্ষার্থী বাইরের খাবার খান, যা ওই হলের মোট আবাসিক শিক্ষার্থীর প্রায় ৭৯ শতাংশ।
কাজী নজরুল ইসলাম হলের চিত্রও প্রায় একই। সেখানে ২১০ জন আবাসিক শিক্ষার্থীর মধ্যে আনুমানিক ৪০ জন ডাইনিংয়ে খাওয়া-দাওয়া করেন। অর্থাৎ প্রায় ১৭০ জন শিক্ষার্থী বাহিরের খাবারের ওপর নির্ভরশীল, যা শতকরা হিসাবে ৮০ শতাংশেরও বেশি।
শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলে ২৩০ জন আবাসিক শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রায় ৯০ জন হলে খাবার গ্রহণ করলেও বাকি ১৪০ জন শিক্ষার্থী বাইরের খাবার বেছে নিচ্ছেন। এ হার প্রায় ৬১ শতাংশ।
ছাত্রীদের হলগুলোতেও একই প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। সুনীতি–শান্তি হলে মোট ৩৩৪ জন আবাসিক শিক্ষার্থীর বিপরীতে মাত্র ৮০ জন ডাইনিংয়ে খাবার খান। অর্থাৎ প্রায় ২৫৪ জন ছাত্রী, যা মোট শিক্ষার্থীর প্রায় ৭৬ শতাংশ, হলের খাবার পরিহার করছেন।
নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী হলে ২৯৬ জন আবাসিক শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রায় ১২০ জন ডাইনিং ব্যবহার করলেও ১৭৬ জন ছাত্রী হলের খাবার গ্রহণ করেন না, যা মোট শিক্ষার্থীর প্রায় ৫৯ শতাংশ।
সব মিলিয়ে পাঁচটি আবাসিক হলে মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ১ হাজার ৬৫০ জন। এর মধ্যে আনুমানিক ৪৫০ জন নিয়মিত হলের ডাইনিংয়ে খাবার গ্রহণ করেন, আর প্রায় ১ হাজার ২০০ জন শিক্ষার্থী বাইরের খাবারের ওপর নির্ভরশীল—যা মোট আবাসিক শিক্ষার্থীর ৭০ শতাংশেরও বেশি।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, খাবারের মান ঠিক না থাকা, স্বাদে বৈচিত্র্যের অভাব, একঘেয়ে মেনু এবং স্বাস্থ্যসম্মত রান্নার ঘাটতির কারণে তারা হল ডাইনিং এড়িয়ে চলছেন।
দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে হলভিত্তিক ডাইনিং ব্যবস্থা কার্যত অচল হয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।
বিজয়–২৪ হলের আবাসিক শিক্ষার্থী নাঈম হোসেন বনেল বলেন, “হলের খাবার খেয়ে শুধু পেট ভরে, সুস্থ থাকা যায় না। যাদের আর্থিক সামর্থ্য আছে তারা বাইরে খায়, আর যাদের নেই তারা বাধ্য হয়ে ডাইনিংয়ের ওপর নির্ভর করে।
নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী হলের ছাত্রী রাহিলাতুল মিম বলেন, “প্রতিদিন প্রায় একই ধরনের খাবার দেওয়া হয়, পছন্দের কোনো বিকল্প থাকে না। দামও তুলনামূলক বেশি, তাই অনেকেই নিজেরা রান্না করে বা বিকল্প উপায়ে খাবারের ব্যবস্থা করে।
এ বিষয়ে সুনীতি–শান্তি হলের প্রভোস্ট ড. মোসা. শাহীনুর বেগম জানান, অধিকাংশ ছাত্রী নিজেরাই রান্না করে খেতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। তিনি বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার সময় যেখানে ৩০–৪০ জন ডাইনিংয়ে খেতেন, বর্তমানে সেই সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৮০ জনে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি মাসে দুই দিন বিশেষ খাবারের ব্যবস্থাও চালু করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে ২৪ হলের প্রভোস্ট ড. মাহমুদুল হাসান খান প্রতিদিনের বাংলাকে বলেন, অনেক শিক্ষার্থী আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে সকালের নাস্তা বাদ দেন বা কম খরচে খাবার সেরে নেন। প্রতিদিন একই ধরনের খাবার ও মান নিয়ে শিক্ষার্থীদের অসন্তোষ রয়েছে বলেও তিনি স্বীকার করেন।
ভর্তুকির বিষয়ে তিনি বলেন, খাবারে সরাসরি ভর্তুকি না থাকলেও হল কর্তৃপক্ষ কর্মচারীদের বেতন, বিদ্যুৎ, গ্যাসসহ নানা আনুষঙ্গিক ব্যয় বহন করছে।
খাবারের মান উন্নয়নে নিয়মিত ডাইনিং ম্যানেজার পরিবর্তন করা হচ্ছে এবং রোজার পর বাজেট থেকে সরাসরি ভর্তুকি দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।
এসআর
মন্তব্য করুন: