২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) মোট ৪১টি উন্নয়ন ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
সংশ্লিষ্টরা এটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গতিশীল ও কার্যকর পরিচালনাকাল হিসেবে উল্লেখ করছেন।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বিকেলে নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনের মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কার্যক্রমগুলোর উদ্বোধন করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এ সময়ের মধ্যে সিনিয়র ম্যানেজমেন্ট টিম গঠন, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের জন্য বিশেষ জরুরি আর্থিক সহায়তা চালু, একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পের সূচনা, কেন্দ্রীয় মসজিদের সংস্কার, একাডেমিক ও আবাসিক অবকাঠামোর উন্নয়ন, অধিভুক্ত সাত কলেজের পৃথকীকরণ প্রক্রিয়ায় অগ্রগতি এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য সুবিধা সম্প্রসারণের মতো গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া ভর্তি ফি অনলাইনে পরিশোধ ব্যবস্থা, উচ্চতর গবেষণা কেন্দ্রগুলোতে পরিচালক নিয়োগে স্বচ্ছতা, ক্যাম্পাসে শাটল সার্ভিস চালু, ইউনেস্কো চেয়ার স্থাপন, কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে আন্তর্জাতিক মানের ২৯টি ই-রিসোর্স সংযুক্তি এবং ট্রান্সক্রিপ্ট, মার্কশিট ও সনদ প্রদানে শিক্ষার্থীবান্ধব সেবা চালুর বিষয়টি তুলে ধরা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক ও একাডেমিক পরিবেশ জোরদারে ঈদ শোভাযাত্রা চালু, ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সম্পর্ক উন্নয়ন, মেডিকেল সেন্টার আধুনিকায়ন, অনলাইনে রেজিস্টার্ড গ্র্যাজুয়েট তালিকাভুক্তি, নৈতিকতা ও মূল্যবোধ বিষয়ক কোর্স প্রবর্তন এবং ক্যাম্পাস নিরাপত্তা জোরদারের উদ্যোগের কথাও জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে প্রায় ২ হাজার ৮৪১ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রস্তাবিত বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্পসহ চলমান ও পরিকল্পিত প্রকল্পগুলোর বিবরণ দেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে আর্থ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস এবং ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি অনুষদের জন্য ২১ তলা একাডেমিক ভবন, ১৫ তলা আইটি হাব, তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীদের আবাসিক ভবন, ৯টি নতুন হল, ৬টি একাডেমিক ভবন, ডাকসু ভবন, মেডিকেল সেন্টার, প্রশাসনিক ভবন, খেলার মাঠ ও জিমনেসিয়াম উন্নয়ন, জলাধার সংস্কার, সড়ক নেটওয়ার্ক ও পাবলিক টয়লেট নির্মাণ।
অনুষ্ঠানে কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা, প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমদ, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, হলের প্রভোস্ট, ডাকসু ও হল সংসদের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মোহাম্মদ জাবেদ আলম মৃধা প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি উপস্থাপন করেন এবং অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মুনসী শামস উদ্দিন আহম্মদ।
এসআর
মন্তব্য করুন: