ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আল-কোরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী সাজিদ আব্দুল্লাহ হত্যার ঘটনার ছয় মাস অতিবাহিত হলেও বিচার কার্যক্রমে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
দ্রুত খুনিদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। মানববন্ধনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীরাও সংহতি প্রকাশ করেন।
এতে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ, সদস্যসচিব মাসুদ রুমি মিথুন এবং ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি রাশেদুল ইসলাম রাফিসহ উভয় সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
কর্মসূচিতে বক্তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও বিচার না হওয়ায় হত্যাকাণ্ডটি নিয়ে প্রশাসনের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠেছে। তারা বলেন, সাজিদের বিচার না হলে ভবিষ্যতে ক্যাম্পাসে কেউই নিরাপদ থাকবে না।
শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে প্রশাসনের দায়িত্বে থাকার নৈতিক অধিকার নেই বলেও মন্তব্য করেন তারা।
দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী আতিকুর রহমান রাজ।
তিনি বলেন, এতদিনেও বিচার না হওয়া প্রমাণ করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের জীবনের কোনো মূল্য নেই। তিনি প্রশাসনের উদাসীনতার কঠোর সমালোচনা করে বলেন, ন্যায়বিচার না হলে ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করবে না।
ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি রাশেদুল ইসলাম রাফি বলেন, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের কথা বারবার বলা হলেও তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে কোনো স্বচ্ছতা নেই। বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তি না হলে ক্যাম্পাসজুড়ে নিরাপত্তাহীনতা আরও বাড়বে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ বলেন, সাজিদ আব্দুল্লাহ ছিলেন একজন মেধাবী শিক্ষার্থী ও কুরআনের হাফেজ। ছয় মাসেও প্রক্টরিয়াল বডির ব্যর্থতা স্পষ্ট। তিনি আগামীকাল বিকাল ৪টার মধ্যে ব্যর্থ প্রক্টরের পদত্যাগ অথবা অপসারণ নিশ্চিত করার দাবি জানান।
উল্লেখ্য, গত বছরের ১৭ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের একটি পুকুর থেকে সাজিদ আব্দুল্লাহর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পরবর্তীতে ভিসেরা প্রতিবেদনে শ্বাসরোধে হত্যার প্রমাণ পাওয়া যায়। ঘটনার পর শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে পুকুর এলাকাকে সংরক্ষিত ঘোষণা করে সাধারণ প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়। বর্তমানে মামলাটি সিআইডির তদন্তাধীন রয়েছে।
এসআর
মন্তব্য করুন: