বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, বিভিন্ন ধরনের আল্পনা, আলোচনা সভা, কেক কাটা, পিঠা উৎসব, পোস্টার উপস্থাপন, জুলাই কর্ণার উদ্বোধন ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি) ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করে।
পাশাপাশি আমন্ত্রিত ব্যান্ড দলের পরিবেশনায় অনুষ্ঠান আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
সকাল ১০টায় প্রশাসনিক ভবনের সামনে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দিবসটির সূচনা হয়।
এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল মজিদ জাতীয় পতাকা ও রিজেন্ট বোর্ডের সদস্য অধ্যাপক ড. এইচ. এম. জাকির হোসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন করেন। পরে প্রধান ফটক থেকে শুরু হয় আনন্দ শোভাযাত্রা, যা ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
শোভাযাত্রা শেষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর বেলুন উড়িয়ে ও কেক কেটে দিবসটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন উপাচার্য।
একই সঙ্গে তিনি গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হোসেন উদ্দিন শেখরসহ অন্যান্য অতিথিদের নিয়ে জুলাই কর্ণার উদ্বোধন করেন।
পরে অতিথিবৃন্দ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের পিঠা উৎসবের স্টল, পথ আল্পনা ও পোস্টার প্রেজেন্টেশন ঘুরে দেখেন। বাহারি নকশা, ঐতিহ্যবাহী স্বাদ ও বৈচিত্র্যময় উপকরণে তৈরি পিঠাগুলো দর্শনার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল মজিদ বলেন, বয়স ও পরিসরে তুলনামূলক ছোট হলেও যবিপ্রবি শিক্ষা ও গবেষণায় উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে।
আধুনিক গবেষণাগার, উন্নত আবাসন সুবিধা, শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ এবং দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম জিমনেসিয়ামের মতো অবকাঠামো বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রগতিকে ত্বরান্বিত করেছে।
তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রমকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে জমি অধিগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ইউজিসিতে ডিপিপি জমা দেওয়া হয়েছে এবং সরকার এ বিষয়ে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ও সৃজনশীল উদ্যোগের প্রশংসা করে উপাচার্য বলেন, আলপনা আঁকা, পিঠা প্রস্তুত ও স্টল সাজানোর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা তাদের সৃজনশীলতার পরিচয় দিয়েছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক চর্চার একটি সুন্দর উদাহরন।
ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক ড. মো. রাফিউল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন গোবিপ্রবির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সোহেল হাসান। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন রিজেন্ট বোর্ডের সদস্য, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. শাহনূর রহমান।
বিকেলে শিক্ষার্থী ও অতিথি শিল্পীদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দিনের আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে।
উল্লেখ্য, ২০০৭ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের সাজিয়ালী মৌজায় ৩৫ একর জমির ওপর যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়।
বর্তমানে আটটি অনুষদের অধীনে ২৭টি বিভাগে প্রায় ৪ হাজার ২৩১ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত।
এখানে ৩৪৫ জন শিক্ষক, ১৬২ জন কর্মকর্তা ও ৩৪৪ জন কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন।
এসআর
মন্তব্য করুন: