[email protected] শনিবার, ৩১ জানুয়ারি ২০২৬
১৮ মাঘ ১৪৩২

কুবির নারী শিক্ষার্থীকে বাসে হেনস্তার অভিযোগ, পুলিশ হেফাজতে পাঁচজন

কুবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৪ জানুয়ারি ২০২৬ ১০:১৭ পিএম

সংগৃহীত ছবি

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) অর্থনীতি বিভাগের এক নারী শিক্ষার্থীকে চলন্ত বাসে হেনস্তার অভিযোগে বাসের চালক, সুপারভাইজার ও স্থানীয় তিনজনসহ মোট পাঁচজনকে আটক করেছে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানা পুলিশ।

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) কুমিল্লা সদর দক্ষিণ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মুস্তাইন বিল্লাহ ফেরদৌস বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী চট্টগ্রামের ভাটিয়ারী এলাকা থেকে ‘তিশা প্লাটিনাম’ নামের একটি বাসে কুমিল্লার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। যাত্রাপথে সিট ঠিক করে দেওয়ার অজুহাতে বাসের হেলপার ইচ্ছাকৃতভাবে তার শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ ওঠে।


পরবর্তীতে বিষয়টি তিনি নিজ বিভাগের শিক্ষক ও সহপাঠীদের জানান। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী পদুয়াবাজার এলাকায় নুরজাহান হোটেলের সামনে বাসটি থামান। এ সময় স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার চেষ্টা করে এবং অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করে। এতে কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন।


ঘটনার খবর পেয়ে শিক্ষার্থীরা পুলিশে ফোন করলে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তিনজনকে আটক করে। পরে বাসের চালক ও সুপারভাইজারকে ক্যাম্পাসে নিয়ে আসা হলে তাদেরও পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।


পদুয়াবাজার নুরজাহান হোটেল এলাকা থেকে আটককৃতরা হলেন—শ্রীবল্লভপুর এলাকার সাব্বির হোসেন (২৫), কচুয়া চৌমুহনী এলাকার নাজমুল হাসান (১৬) ও কাজীপাড়ার রবিউল ইসলাম (১৭)। এছাড়া কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে আটক করা হয় বাসচালক আলমগীর (৩০) ও সুপারভাইজার মামুনকে (৩১)।


অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক স্বর্ণা মজুমদার জানান, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী সিট পরিবর্তনের জন্য সহযোগিতা চেয়েছিল। কিন্তু সেই সুযোগ নিয়ে হেলপার ইচ্ছাকৃতভাবে অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ করেন। বর্তমানে শিক্ষার্থী মানসিকভাবে বিপর্যস্ত থাকলেও তিনি মামলার বিষয়ে সম্মত এবং আদালতে জবানবন্দি দিতে প্রস্তুত।


বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল হাকিম বলেন, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করবে।


এ বিষয়ে এএসপি মুস্তাইন বিল্লাহ ফেরদৌস বলেন, প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের জন্য ভুক্তভোগীর বক্তব্য ও প্রক্টরিয়াল বডির দেওয়া তথ্যের আলোকে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নুরজাহান হোটেল এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনায় তিনজন এবং ক্যাম্পাস থেকে দুইজনসহ মোট পাঁচজনকে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে।

এসআর

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর