জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এএসএম আমানুল্লাহ বলেছেন, দেশের মোট উচ্চশিক্ষার্থীর প্রায় ৭০ শতাংশ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতায় পড়াশোনা করে, যাদের বড় একটি অংশ মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের।
শিক্ষাজীবন শেষে যাতে তারা বেকারত্বের কারণে পরিবার ও সমাজের ওপর বোঝা হয়ে না দাঁড়ায়, সে লক্ষ্যেই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের কর্মোপযোগী দক্ষতায় গড়ে তুলতে নানা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
তিনি জানান, এই উদ্দেশ্যে প্রচলিত ও পুরোনো পাঠক্রম যুগোপযোগী করে সংস্কার করা হয়েছে। স্নাতক সম্মান পর্যায়ে আইসিটি ও ইংরেজি বিষয় বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পাশাপাশি কারিগরি ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণ বাস্তবায়নে এটুআই, জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (এনএসডিএ) এবং ইউনিসেফসহ বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করা হয়েছে।
দেশি ও বিদেশি খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয় এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও শিক্ষা কার্যক্রম বিনিময়ের বিষয়ে আলোচনা চলমান রয়েছে।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) কক্সবাজার সরকারি কলেজে অনুষ্ঠিত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
কক্সবাজার সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক আবুল হাসনাত মো. মফিজুল হকের সভাপতিত্বে আয়োজিত সভায় আরও বক্তব্য দেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নূরুল ইসলাম এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এটিএম জাফরুল আযম।
সভায় ভিসি আমানুল্লাহ আরও বলেন, সিলেবাস প্রণয়নে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং শিল্পখাত ও বাজারের চাহিদাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে, যাতে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা শেষ করে দ্রুত চাকরি বা উদ্যোক্তা হিসেবে কর্মজীবন শুরু করতে পারে।
কক্সবাজার জেলার সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত এই জেলার অন্যতম সম্পদ। পর্যটনসম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে ট্যুরিজম ও হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে পেশাভিত্তিক কোর্স চালুর প্রয়োজন রয়েছে। একই সঙ্গে কক্সবাজার সরকারি কলেজে গণিত ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ে মাস্টার্স কোর্স চালু করার আশ্বাস দেন তিনি।
এর আগে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী জেলা পর্যায়ের আন্তঃকলেজ ক্রীড়া প্রতিযোগিতা–২০২৬ কক্সবাজার সরকারি কলেজ মাঠে পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে উদ্বোধন করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এএসএম আমানুল্লাহ।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক আবুল হাসনাত মো. মফিজুল হক। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নূরুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এটিএম জাফরুল আযম, উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. অহিদুল ইসলাম, শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক মুহাম্মদ উল্লাহ এবং জেলা পর্যায়ের আন্তঃকলেজ ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আহ্বায়ক আহমদ কবিরসহ সংশ্লিষ্টরা।
এসআর
মন্তব্য করুন: