বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতামূলক চাকরির বাজারে নিজেদের দক্ষ ও প্রস্তুত করে গড়ে তুলতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থীদের জন্য একটি বিশেষ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আন্তর্জাতিক শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের বাস্তব অভিজ্ঞতা শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরতেই এ আয়োজন করা হয়।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রবীন্দ্র–নজরুল কলা ভবনের গগন হরকরা মিলনায়তনে ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসিউরেন্স সেল (আইকিউএসি)-এর উদ্যোগে “বৈশ্বিক চাকরির বাজারের প্রস্তুতি: শিক্ষার্থী ও প্রাক্তন পেশাজীবীদের অভিজ্ঞতা” শীর্ষক এই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
আইকিউএসি পরিচালক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ নাজিমুদ্দিনের সভাপতিত্বে আয়োজিত কর্মশালায় রিসোর্স পারসন হিসেবে বক্তব্য দেন যুক্তরাজ্যপ্রবাসী আইইউবি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. তারিক খান এবং আইইউবি অ্যালামনাই যুক্তরাজ্যের সেক্রেটারি ও ল’ম্যাটিক সলিসিটরস-এর সিনিয়র পার্টনার ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান।
এছাড়া অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও যুক্তরাজ্যপ্রবাসী মো. সুমন ইসলাম ও মো. মিজানুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
কর্মশালায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ থেকে মোট ২২২ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। শুরুতে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মাঝে ফাইল, নোটপ্যাড ও কলম বিতরণ করা হয়।
এরপর আইকিউএসি পরিচালক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ নাজিমুদ্দিন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে স্বাগত ও দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন।
ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান তাঁর বক্তব্যে বলেন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনো একটি শক্তিশালী কেন্দ্রীয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন না থাকায় প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত উদ্যোগে কিছুটা ঘাটতি রয়েছে।
তবে শিগগিরই একটি কেন্দ্রীয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক চাকরির বাজারে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি আরও জানান, আগামী পাঁচ বছরে অন্তত এক হাজার শিক্ষার্থীকে বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ করে দেওয়ার লক্ষ্যে একটি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যা সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাস্তবায়ন সম্ভব।
অন্য রিসোর্স পারসন মো. মিজানুর রহমান বলেন, যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আত্মবিশ্বাস সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। অনেক বিষয়কে জটিল মনে হলেও সঠিক প্রস্তুতি ও মনোবল থাকলে তা সহজেই সম্ভব।
তিনি বিদেশে পড়াশোনা ও কর্মজীবনে সফল হতে ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা ও যোগাযোগ দক্ষতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন।
তিনি আরও বলেন, বিদেশে শিক্ষার্থীরা প্রাথমিকভাবে নানা সমস্যার মুখোমুখি হলেও সঠিক গাইডলাইন ও প্রস্তুতি থাকলে সেগুলো সহজেই কাটিয়ে ওঠা যায়। এ ধরনের কর্মশালা নিয়মিত আয়োজন করা হলে শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রস্তুতি আরও শক্তিশালী হবে।
কর্মশালার শেষ পর্বে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে রিসোর্স পারসনদের প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এতে আন্তর্জাতিক সুযোগ-সুবিধা, ক্যারিয়ার পরিকল্পনা ও দক্ষতা উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের জন্য আন্তর্জাতিক মানের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আইইএলটিএস কোর্স চালুর উদ্যোগের কথাও জানানো হয়, যেখানে তিনটি গ্রুপে মোট ৯০ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন।
এসআর
মন্তব্য করুন: