[email protected] বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
২৯ মাঘ ১৪৩২

বহিষ্কৃত শিক্ষক বিপাশার অপপ্রচার, চাপের মুখে মীরপুর গার্লস আইডিয়াল স্কুল

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ ৩:৪৭ পিএম

সংগৃহীত ছবি

মীরপুর গার্লস আইডিয়াল ল্যাবরেটরী ইনস্টিটিউটের বরখাস্তকৃত শিক্ষক বিপাশার বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ উঠেছে। তার হামলা ও মামলার কারনে চাপের মুখে পড়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর–রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন প্রধান শিক্ষক জিনাত ফারহানা।

লিখিত বক্তব্যে জিনাত ফারহানা বলেন, দীর্ঘদিনের অনিয়ম, শৃঙ্খলাভঙ্গ, সহিংস আচরণ ও অপপ্রচারের অভিযোগে মীরপুর গার্লস আইডিয়াল ল্যাবরেটরী ইনস্টিটিউটের সহকারী শিক্ষক (সংগীত) বিপাশা ইয়াসমিনকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছে কর্তৃপক্ষ।

এর পর থেকেই তিনি নানা ভাবে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক কর্মচারীদের হামলা, মামলা দিয়ে শিক্ষার পরিবেশ বিনষ্ট হচ্ছে।

এছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে শিক্ষক ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে মানহানিকর ভিডিও ও ভুয়া কনটেন্ট ছড়িয়ে ডিজিটাল অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগও উত্থাপন করা হয়। এতে আমরা ভীষণ চাপের মধ্যে রয়েছি।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ২০১৫ সালে অনুমোদিত শিক্ষক–কর্মচারী প্যাটার্নের বাইরে এডহক ভিত্তিতে বিপাশা ইয়াসমিনকে নিয়োগ দেওয়া হয়।

পরে তৎকালীন আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী সংসদ সদস্য ও আমলাতান্ত্রিক মহলের পরিচয় ব্যবহার করে নিয়মনীতি উপেক্ষা করে তার চাকরি স্থায়ী করা হয় ।  

চাকরিতে যোগদানের পর থেকেই তিনি প্রধান শিক্ষক ও প্রশাসনের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে পড়েন।

এক পর্যায়ে সহকারী প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ এনে তা গণমাধ্যমে প্রচার করা হয়।

তবে অভ্যন্তরীণ তদন্তসহ মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) এবং ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) উত্তর বিভাগের তিন দফা তদন্তে অভিযোগটি ভিত্তিহীন ও মিথ্যা প্রমাণিত হয় বলে জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি নিজেকে বিভিন্ন আন্দোলনের নেত্রী পরিচয় দিয়ে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অনুপ্রবেশ করেন এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের ওপর হামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে একাধিকবার মিরপুর-১০ সেনা ক্যাম্পের সদস্যদের হস্তক্ষেপ করতে হয় বলে দাবি করা হয়।


এছাড়া ব্যক্তিগত প্রভাব ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিনি মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরকে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেন বলেও অভিযোগ ওঠে। এর ফলে প্রধান শিক্ষক জিনাত ফারহানার সরকারি বেতন ও আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়।

পরে রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট ওই আদেশ স্থগিত করেন।


সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, কোনো সদস্যপদ ছাড়াই শিক্ষক সমিতির এক শীর্ষ নেতার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার দাবি তুলে তিনি বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক পদ দাবি করে প্রচারণা চালান, যা শিক্ষক সমাজে বিভ্রান্তি ও ক্ষোভের সৃষ্টি করে।

এছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে শিক্ষক ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে মানহানিকর ভিডিও ও ভুয়া কনটেন্ট ছড়িয়ে ডিজিটাল অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগও উত্থাপন করা হয়।

পাশাপাশি মাউশির কিছু অসাধু কর্মকর্তাকে ব্যবহার করে ধারাবাহিক অভিযোগ দায়েরের মাধ্যমে হয়রানি এবং প্রধান শিক্ষকের সরকারি বেতন সাময়িক বন্ধ করানোর ঘটনাও সামনে আসে, যা পরে আদালতের আদেশে স্থগিত হয়।


আরও বলা হয়, যোগ্যতা ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ঢাকা-১৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লাহ ও জাহাঙ্গির কবির নানকের ঘনিষ্ঠ পরিচয়ের সূত্রে এবং এক প্রভাবশালী আমলার স্ত্রী হিসেবে তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশনে নিয়মিত শিল্পী হিসেবে কাজের সুযোগ পান।

আমরা তার হামলা, মামলা ও অপপ্রচার থেকে রক্ষা পেতে সংশ্লিষ্টদের কাছে আহ্বান জানাচ্ছি।
একই সঙ্গে গণমাধ্যমকে দায়িত্বশীলভাবে তথ্য যাচাই করে প্রকৃত তথ্য উপস্থাপনের আহ্বান জানানো হয়।


সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানের সহকারী প্রধান শিক্ষক আহমাদ উল্লাহ কাসেমী, দিবা শাখার ইনচার্জ জেসমিন আহমেদ এবং প্রভাতী শাখার ইনচার্জ সুয়ারা সুলতানা প্রমুখ।

এসআর

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর