বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ-এমন সিদ্ধান্ত সিন্ডিকেট থেকে থাকলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন বলে অভিযোগ উঠেছে।
ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে এখনো ‘রাজনীতি নিষিদ্ধ’ লেখা ব্যানার ঝুলতে দেখা গেলেও দলীয় ছাত্রসংগঠনগুলোর কার্যক্রম প্রকাশ্যে ও আড়ালে চলমান রয়েছে বলে দাবি শিক্ষার্থীদের।
বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থী জানান, নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও জাতীয় পর্যায়ের কয়েকটি ছাত্রসংগঠন নিয়মিত সাংগঠনিক তৎপরতা চালাচ্ছে। কোথাও ব্যানার ব্যবহার, কোথাও কর্মসূচি পালন, আবার কোথাও আংশিক কমিটি গঠনের অভিযোগও উঠেছে।
সম্প্রতি বিজয় দিবস উপলক্ষে ক্যাম্পাসে একটি ছাত্রসংগঠনের ব্যানারে সাইকেল র্যালি অনুষ্ঠিত হয় বলে জানা গেছে।
এছাড়া বিভিন্ন সময় অন্য সংগঠনের ব্যানারেও কর্মসূচি পালনের দৃশ্য দেখা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকলেও প্রশাসনিক নির্দেশনা উপেক্ষা করে এসব তৎপরতা অব্যাহত রাখা হয়েছে।
এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো স্পষ্ট বক্তব্য বা দৃশ্যমান ব্যবস্থা দেখা যায়নি। এতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
তাঁদের প্রশ্ন—যদি ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধই থাকে, তাহলে এসব কর্মসূচি কোন নিয়মে পরিচালিত হচ্ছে? আর যদি অনুমোদন থাকে, তবে ‘রাজনীতি নিষিদ্ধ’ ব্যানার ঝুলিয়ে রাখার যৌক্তিকতা কোথায়?
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের এক শিক্ষার্থী বলেন, নিষেধাজ্ঞা থাকা অবস্থায় প্রকাশ্যে রাজনৈতিক কর্মসূচি চলা প্রশাসনের দুর্বলতাই প্রকাশ করে। নিয়ম থাকলে তার প্রয়োগও থাকতে হবে, নইলে এমন সিদ্ধান্তের কোনো অর্থ থাকে না।
অন্য এক শিক্ষার্থী জানান, দলীয় সংগঠনগুলো শিক্ষার্থীবান্ধব কর্মসূচির কথা বললেও সাধারণ শিক্ষার্থীদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হয় না। তিনি বলেন, অধিকাংশ শিক্ষার্থী দলীয় রাজনীতির পরিবর্তে কার্যকর ছাত্রসংসদ দেখতে চায়। নইলে অতীতের মতো ক্ষমতার অপব্যবহার ও হলকেন্দ্রিক সমস্যার আশঙ্কা থেকেই যায়।
এ বিষয়ে বেরোবি ছাত্রদলের এক নেতা দাবি করেন, তাদের কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের স্বার্থেই সীমাবদ্ধ এবং কোনো ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তারা যুক্ত নন।
অন্যদিকে ইসলামী ছাত্রশিবিরের এক সদস্য বলেন, শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবি ছাত্রসংসদ চালুর বিষয়ে প্রশাসনের উদ্যোগ না থাকায় সংগঠনগুলো আবার সক্রিয় হচ্ছে। তাঁর মতে, নিষেধাজ্ঞা কার্যকর না হলে তার দায় প্রশাসনের।
সংশ্লিষ্টদের মতে, ছাত্ররাজনীতি নিয়ে সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত ও বাস্তবসম্মত প্রয়োগ না থাকলে ক্যাম্পাসে বিভ্রান্তি বাড়বে। দ্রুত পরিষ্কার নীতিমালা ও কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্ত ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
এসআর
মন্তব্য করুন: