নতুন শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছানো মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যবইয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা গেছে।
অষ্টম শ্রেণির ‘সাহিত্য কণিকা’ বই থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চ ১৯৭১-এর ভাষণ আর অন্তর্ভুক্ত নেই।
এর আগে ২০২৫ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত ‘সাহিত্য কণিকা’ গ্রন্থের গদ্যাংশে ‘এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’ শিরোনামে শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ সংকলিত ছিল।
নতুন সংস্করণে সেই অংশটি বাদ দেওয়া হয়েছে। ফলে এবার বইটির গদ্যাংশে মোট ১২টির পরিবর্তে ১১টি রচনা রাখা হয়েছে।
নতুন পাঠ্যবই পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গদ্যাংশে এবারও স্থান পেয়েছে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের অতিথির স্মৃতি, কাজী নজরুল ইসলামের ভাব ও কাজ, বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পড়ে পাওয়া, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৈলচিত্রের ভূত, মোতাহের হোসেন চৌধুরীর লাইব্রেরি, মমতাজউদদীন আহমদের সুখী মানুষ, মুস্তাফা মনোয়ারের শিল্পকলার নানা দিক, বিপ্রদাশ বড়ুয়ার মংডুর পথে, শামসুজ্জামান খানের বাংলা নববর্ষ, হুমায়ুন আজাদের বাংলা ভাষার জন্মকথা এবং গণঅভ্যুত্থানের কথা।
অন্যদিকে, কবিতাংশে আগের মতোই ১৩টি কবিতা বহাল রাখা হয়েছে।
সূত্র জানায়, পূর্ববর্তী পাঠ্যবইয়ে ৭ মার্চের ভাষণটি বইয়ের ৩১ থেকে ৩৬ পৃষ্ঠা জুড়ে বিস্তারিতভাবে অন্তর্ভুক্ত ছিল এবং স্বাধীনতা আন্দোলনে এর ভূমিকা গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হতো। তবে এবারের সংস্করণে সেটি আর রাখা হয়নি।
জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যবইয়ে বড় ধরনের পুনর্বিন্যাস শুরু হয়। এর অংশ হিসেবে কিছু বিষয়বস্তু সংশোধন ও বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) সূত্রে জানা গেছে, শেখ মুজিবুর রহমানকে কেন্দ্র করে পাঠ্যবইয়ে অতিরঞ্জিত উপস্থাপন সংশোধনের জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়।
সেই নির্দেশনার ভিত্তিতেই সর্বশেষ পাঠ্যবইগুলোতে পরিবর্তন আনা হয়েছে।
এসআর
মন্তব্য করুন: