জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) ও আবাসিক হল সংসদ নির্বাচন স্থগিতের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে তীব্র বিক্ষোভে ফেটে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা।
ঘোষণার পরপরই ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা উপাচার্য ভবনের সামনে অবস্থান নেন এবং ভবন ঘিরে রেখে স্লোগান দিতে থাকেন।
মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকালে নির্বাচন কমিশনের এক বিজ্ঞপ্তিতে জকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের কার্যক্রম স্থগিতের তথ্য জানানো হয়।
এ খবরে সকাল থেকেই ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীরা দলবদ্ধভাবে উপাচার্য ভবনের সামনে জড়ো হয়ে প্রবেশপথ অবরোধ করেন।
বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর নির্বাচনের দিন ঠিক হলেও শেষ মুহূর্তে তা বাতিল করে প্রশাসন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। তাদের দাবি, আজকের মধ্যেই নির্বাচনের আয়োজন নিশ্চিত করতে হবে।
সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৩–২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান বলেন, জকসু নির্বাচন শিক্ষার্থীদের ন্যায্য অধিকার। সরকারিভাবে নির্বাচন বন্ধের কোনো নির্দেশ না থাকা সত্ত্বেও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এটি স্থগিত করেছে।
আমরা চাই, যেকোনো পরিস্থিতিতেই আজ ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হোক।
আরেক শিক্ষার্থী নাসুমা তাসনিম বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে এটিই প্রথম কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তা স্থগিত করে প্রশাসন আমাদের প্রত্যাশার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।
নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়া হলেও নতুন কোনো সময়সূচি জানানো হয়নি। শীতের কষ্ট উপেক্ষা করে শিক্ষার্থীরা ভোট দিতে ক্যাম্পাসে এসেছিল- শেষ মুহূর্তের এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত হতাশাজনক।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম জানান, এক জরুরি সিন্ডিকেট সভায় জকসু ও হল সংসদ নির্বাচন স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।
উপাচার্যের বক্তব্য অনুযায়ী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুসংবাদের প্রেক্ষিতেই নির্বাচন স্থগিতের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
এসআর
মন্তব্য করুন: