জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করে একটি প্রতারক চক্র বৃত্তির প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করছে—এমন অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের অজান্তেই সংবেদনশীল ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস হয়েছে, যা ব্যবহার করেই এই প্রতারণা চালানো হচ্ছে।
শিক্ষার্থীরা জানান, প্রতারকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৮তম থেকে ৫৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের নাম, বিভাগ, বর্ষ, অভিভাবকের মোবাইল নম্বর এবং ব্যাংক সংক্রান্ত তথ্য আগেই জেনে রাখে।
এরপর অভিভাবকদের ফোন করে জানানো হয় যে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী একটি মেধা বা বোর্ড বৃত্তি পেয়েছে। টাকা ছাড়ের অজুহাতে ওটিপি নেওয়া হয়, যা শেয়ার করার পর বিকাশ, নগদ কিংবা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তুলে নেওয়া হচ্ছে।
ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের এক শিক্ষার্থী জানান, তাকে ফোন করে বলা হয়েছিল তিনি প্রায় ১৮ হাজার টাকার বৃত্তি পেয়েছেন। দ্রুত ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা এটিএম কার্ড নম্বর না দিলে টাকা বাতিল হয়ে যাবে—এমন চাপও দেওয়া হয়।
বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তিনি নম্বর ব্লক করেন। তবে সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় ছিল, প্রতারকরা তার নাম, বিভাগ, ব্যাচ, পরিবারের তথ্য এমনকি জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর পর্যন্ত জানত।
আরেক শিক্ষার্থী জানান, তার বাবার নম্বরে ফোন করে প্রতারকরা একই কৌশল ব্যবহার করে। পরে পরিবারের একজনের ডেবিট কার্ডের তথ্য দিলে ই-মেইলে পাঠানো ওটিপি ব্যবহার করে কার্ডে থাকা কয়েক হাজার টাকা তুলে নেওয়া হয়।
ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো অনলাইন ফরম, বৃত্তি সংক্রান্ত নথি, অভ্যন্তরীণ ডেটাবেইস বা সংশ্লিষ্ট ব্যাংকিং ব্যবস্থার কোনো অংশ থেকে এসব তথ্য ফাঁস হয়ে থাকতে পারে।
এ বিষয়ে অগ্রণী ব্যাংকের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখার ব্যবস্থাপক জানান, ব্যাংক থেকে তথ্য ফাঁস হওয়ার সম্ভাবনা নেই এবং ব্যাংকের কাছে শিক্ষার্থীদের এত বিস্তারিত তথ্য সংরক্ষিতও থাকে না। ব্যাংকের সিস্টেম হ্যাক হওয়ার কোনো ঘটনাও ঘটেনি বলে তিনি দাবি করেন।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে এবং তথ্য ফাঁসের উৎস শনাক্তে প্রয়োজনীয় তদন্ত করা হবে।
এসআর
মন্তব্য করুন: