[email protected] সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬
৩০ চৈত্র ১৪৩২

এনবিআরের ১৭ কর্মকর্তার সম্পদের খোঁজে দুদক

এম. এ রনী

প্রকাশিত: ১৯ আগষ্ট ২০২৫ ১০:২৫ এএম

সংগৃহীত ছবি

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) শীর্ষ ১৭ কর্মকর্তার সম্পদের হিসাব চেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) দুদকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(১) ধারা এবং দুর্নীতি দমন কমিশন বিধিমালা, ২০০৭-এর ১৭ নং বিধি অনুযায়ী নির্ধারিত ছকে তাদের সম্পদ ও দায়-দেনার হিসাব বিবরণী দাখিলের নির্দেশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।

তালিকায় আছেন—
কর কমিশনার (কর অঞ্চল-৩) এম এম ফজলুল হক, কর আপিল ট্রাইব্যুনালের কমিশনার লোকমান আহমেদ, আয়কর গোয়েন্দা ইউনিটের অতিরিক্ত কর কমিশনার সাহেলা সিদ্দিক, অতিরিক্ত কর কমিশনার মো. মামুন মিয়া, ভ্যাট গোয়েন্দা বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার হাছান তারিক রিকাবদার, যুগ্ম কর কমিশনার মোনালিসা সাহরিন সুস্মিতা, কর অ্যাকাডেমির যুগ্ম কর কমিশনার মো. মোরশেদ উদ্দিন খান, কর অঞ্চল-৮-এর অতিরিক্ত কর কমিশনার মির্জা আশিক রানা, কর অঞ্চল-১৬-এর উপকর কমিশনার মো. শিহাবুল ইসলাম, অতিরিক্ত কমিশনার আব্দুল রশিদ মিয়া, রেলওয়ে কাস্টমসের কমিশনার মো. কামরুজ্জামান, কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট পূর্বাঞ্চলের কমিশনার কাজী মোহাম্মদ জিয়া উদ্দিন, কাস্টমসের অতিরিক্ত কমিশনার সাধন কুমার কুন্ডু, এনবিআরের যুগ্ম কমিশনার মো. তারিক হাছান, এনবিআরের সিআইসির সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. আলমগীর হোসেন, এনবিআরের সদস্য মো. লুৎফুল আজিম ও সদস্য (আয়কর নীতি) এ কে এম বদিউল আলম।

অভিযোগ কী?

দুদকের অনুসন্ধান সূত্রে জানা গেছে, এসব কর্মকর্তা কর ও শুল্ক আদায়ে অনিয়মের মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের ঘুষ লেনদেনে জড়িত। অভিযোগ রয়েছে—

  • ঘুষের বিনিময়ে করদাতাদের কর ফাঁকির সুযোগ দেওয়া,
  • কর ফাঁকির ভুয়া মামলা করে ব্যবসায়ী ও প্রতিষ্ঠানের মালিকদের হয়রানি করা,
  • কর ফেরতের নামে ঘুষ আদায়,
  • শুল্ক ও ভ্যাট ফাঁকির সুযোগ করে দেওয়া,
  • দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জন।

ফলে প্রতিবছর সরকার বিপুল রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

গত জুলাইয়ে দুদক জানায়, তাদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর আগেই জমা হওয়া অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, কর্মকর্তারা বিভিন্ন পদে থাকাকালীন সময় ব্যবসায়ী ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আঁতাত করে কর ফাঁকি ও রাজস্ব চুরি করেছেন।

এদিকে, গত ১২ মে সরকার এনবিআর বিলুপ্ত করে রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা নামে দুটি পৃথক বিভাগ করার অধ্যাদেশ জারি করে। এ সিদ্ধান্তের পরপরই এনবিআরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রায় দুই দফায় আন্দোলন কর্মসূচি পালন করেন। ব্যবসায়ীদের মধ্যস্থতায় আন্দোলন প্রত্যাহার হলেও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ থেমে থাকেনি।

এসআর

সম্পর্কিত খবর