[email protected] বৃহঃস্পতিবার, ৩ এপ্রিল ২০২৫
২০ চৈত্র ১৪৩১

সিন্ডিকেট করে তেলের দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা!

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৯ মার্চ ২০২৫ ৩:০০ পিএম
আপডেট: ২৯ মার্চ ২০২৫ ৩:০৩ পিএম

ফাইল ছবি

ভোজ্যতেল পরিশোধন কারখানার মালিকেরা সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটারে ১৮ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব করেছেন।

বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন এ সংক্রান্ত চিঠি বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনে পাঠিয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ), ঈদের ছুটির আগের শেষ কর্মদিবসে এই চিঠি পাঠানো হয়। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সরকারি ছুটির ফাঁক ব্যবহার করে অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধির পথ তৈরি করা হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, ১ এপ্রিল থেকে নতুন দাম কার্যকর হবে, অথচ এর মধ্যেই সরকারি দপ্তরগুলো বন্ধ থাকায় বিষয়টি পর্যালোচনার সুযোগ সীমিত।

দাম বাড়ানোর কারণ হিসেবে আমদানি পর্যায়ে শুল্ক-কর অব্যাহতির মেয়াদ শেষ হওয়াকে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এ হিসাব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, কারণ আগেও শুল্ক-কর অব্যাহতির সুবিধা থাকলেও তেলের দাম কমেনি, বরং বিশ্ববাজারের অজুহাতে বাড়ানো হয়েছিল।

দামের অস্বচ্ছতা ও অতিরিক্ত মুনাফার অভিযোগ

সরকার গত ১৫ ডিসেম্বর ভোজ্যতেলের ভ্যাট অব্যাহতির মেয়াদ ৩১ মার্চ পর্যন্ত বাড়িয়েছিল। কিন্তু তখন তেলের দাম কমানো হয়নি, বরং বিশ্ববাজারে মূল্যবৃদ্ধির অজুহাতে ৮ টাকা বাড়ানো হয়।

হিসাব অনুযায়ী, শুল্ক-কর রেয়াতের ফলে কোম্পানিগুলোর সাশ্রয় হয়েছিল প্রতি লিটারে ১১ টাকা। এখন শুল্ক-কর অব্যাহতি শেষ হওয়ার অজুহাতে ১৮ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে, যা প্রতি লিটারে ৭ টাকা অতিরিক্ত মুনাফার ইঙ্গিত দেয়।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আমদানি ও অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য (আইআইটি) দপ্তরের অতিরিক্ত সচিব আব্দুর রাজ্জাক জানিয়েছেন, সরকার অনুমোদন না দিলে দাম বাড়ানো বৈধ হবে না। তিনি বলেন, "দাম বাড়ানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত বৈঠকের মাধ্যমে নেওয়া হয়, যা এখনো হয়নি।"

ভোজ্যতেল ব্যবসায়ীরা বলছেন, ১ এপ্রিলের মধ্যে ভ্যাট অব্যাহতির মেয়াদ বাড়ানো হলে দাম অপরিবর্তিত থাকবে। তবে শুল্ক-কর অব্যাহতি না থাকলে আমদানি খরচ বেড়ে যাওয়ায় দাম বাড়ানোর প্রয়োজন হতে পারে।

এদিকে, ট্যারিফ কমিশন ১৮ মার্চ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) ভোজ্যতেলের শুল্ক-কর রেয়াত আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করেছে, তবে এ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, শেষ কর্মদিবসে দাম বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়ে ব্যবসায়ীরা সরকারের ওপর চাপ তৈরি করতে চাইছেন, যা নীতিনির্ধারকদের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

এসআর

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর