বাজারে ভোজ্যতেলের কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছে ৬-৭টি কোম্পানি, যা তিন মাস ধরে অব্যাহত রয়েছে।
সরবরাহ কমিয়ে সংকট সৃষ্টি করার ফলে দ্বিতীয় রোজাতেও খুচরা পর্যায়ে বোতলজাত সয়াবিন তেল পাওয়া যাচ্ছে না।
খোলা তেল বিক্রি হলেও প্রতি লিটারের মূল্য দাঁড়িয়েছে ২০০ টাকা, যা সাধারণ ক্রেতাদের জন্য বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।
অথচ কর্তৃপক্ষের কাছে এ বিষয়ে যথেষ্ট তথ্যপ্রমাণ থাকলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, বরং সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোকে শুধু শোকজের মাধ্যমে দায় সারা হচ্ছে।
রাজধানীর বাজার পরিস্থিতি
সোমবার রাজধানীর জিনজিরা কাঁচাবাজারে ছয়টি মুদি দোকান ঘুরে বোতলজাত সয়াবিন তেল পাওয়া যায়নি। তবে প্রতিটি দোকানে খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হতে দেখা গেছে।
ভোক্তারা বাধ্য হয়ে খোলা তেল কিনতে ভিড় করছেন, আর এই সুযোগে বিক্রেতারা প্রতি লিটার ২০০ টাকায় বিক্রি করছেন।
মুদি ব্যবসায়ী রোকন জানান, গত ১০ দিন ধরে কোম্পানিগুলো বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেল সরবরাহ করছে না। ফলে চাহিদা থাকা সত্ত্বেও দোকানে তেল নেই।
নয়াবাজারেও একই অবস্থা
নয়াবাজারে ৮টি দোকানের মধ্যে মাত্র দুটিতে বোতলজাত তেল পাওয়া গেছে, যার দাম নির্ধারিত ১৭৫ টাকার পরিবর্তে ১৯০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
তবে খোলা সয়াবিন তেল সব দোকানেই পাওয়া গেলেও তা লিটারে ১৯৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা সরকার নির্ধারিত ১৫৭ টাকার চেয়ে অনেক বেশি।
ভোক্তারা অভিযোগ করেছেন, ব্যবসায়ীরা ইচ্ছাকৃতভাবে বাজার থেকে বোতলজাত তেল সরিয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছেন।
সরকারি প্রতিক্রিয়া
কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) ভাইস প্রেসিডেন্ট এসএম নাজের হোসাইন বলেন, ভোজ্যতেলের সংকটের প্রকৃত কোনো কারণ নেই, কারণ চাহিদার তুলনায় আমদানি বেশি হয়েছে।
সরকার ও তদারকি সংস্থার কাছে কারসাজির যথেষ্ট প্রমাণ থাকলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
এদিকে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন জানিয়েছেন, কয়েক দিনের মধ্যে সয়াবিন তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হবে।
তবে বাজারে তেলের মূল্যবৃদ্ধির বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেছেন, পাম অয়েল সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে ২৫ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে, ফলে সামগ্রিকভাবে ভোজ্যতেলের বাজারে ভারসাম্য রক্ষিত হবে বলে তিনি আশাবাদী।
ভ্যাট অব্যাহতি ও বাজার নিয়ন্ত্রণ
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সম্প্রতি ভোজ্যতেল, মসলা, আটা-ময়দা এবং লবণসহ বেশ কয়েকটি পণ্যের সরবরাহ পর্যায়ে ভ্যাট অব্যাহতি দিয়েছে, যা বাজারে কিছুটা প্রভাব ফেলতে পারে। তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, এসব পদক্ষেপ কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত না হলে বাজারে সংকট ও মূল্যবৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে।
সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন পদক্ষেপের ঘোষণা এলেও বাজার পরিস্থিতি এখনো অস্থির। ভোক্তারা দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন, যাতে নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পণ্যটির দাম নিয়ন্ত্রণে আনা যায়।
এসআর
মন্তব্য করুন: