চট্টগ্রামে ভোজ্যতেলের সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। দুই মাস ধরে চলমান এই সংকটে চাহিদার মাত্র ২৫ শতাংশ তেলও মিলছে না।
নগরী থেকে শুরু করে উপজেলার খুচরা ও পাইকারি দোকানগুলোতে তেলের অভাব তীব্র আকার নিয়েছে। আসন্ন রমজানে সংকট আরও প্রকট হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সাধারণ ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, দেশের বৃহত্তম ভোগ্যপণ্যের বাজার চাক্তাই-খাতুনগঞ্জে একাধিক সিন্ডিকেট কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছে। সরকার নির্ধারিত দামের পর আমদানিকারক ও মিল মালিকরা সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছেন।
ফলে মধ্যস্বত্বভোগী ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত মুনাফার জন্য তেল বিক্রি সীমিত করে রেখেছেন। বাজারে এক ও দুই লিটারের বোতলজাত তেলের সরবরাহ প্রায় নেই বললেই চলে।
মূল্যবৃদ্ধি ও সরবরাহ সংকট
সরকার ডিসেম্বর মাসে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটারে ৮ টাকা বাড়িয়ে ১৭৫ টাকা নির্ধারণ করলেও বাজারে সেই দামে তেল পাওয়া যাচ্ছে না।
খোলা সয়াবিন ও পাম তেলের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। খুচরা দোকানে প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল ১৯০ থেকে ২০০ টাকা, ২ লিটার ৩৯০ থেকে ৪০০ টাকা, ৫ লিটার বোতল ৯৫০ থেকে ১০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খোলা সয়াবিন তেলের দাম ১৬৫-১৭০ টাকা প্রতি লিটার।
পাইকারি বাজারে পরিস্থিতি
খাতুনগঞ্জের পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানান, দুই মাসের ব্যবধানে খোলা সয়াবিন তেলের দাম মনপ্রতি ৯০০ টাকা বেড়েছে।
বর্তমানে প্রতিমন (৩৭.৩২ লিটার) তেলের দাম ৬৯০০ টাকা, যা আগে ছিল ৫৫০০-৬০০০ টাকা। মিলগেট থেকে সরবরাহ কম থাকায় পাইকারি বাজারেও সংকট দেখা দিয়েছে।
আমদানিকারকদের যুক্তি
আমদানিকারকরা বলছেন, ডলার সংকটের কারণে আমদানি কমেছে, যার ফলে বাজারে সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।
সরকার নির্ধারিত দামে তেল বিক্রি করলে লোকসান হবে বলে তাদের দাবি। এছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারে পাম অয়েলের দাম বৃদ্ধি এবং ইন্দোনেশিয়ার উৎপাদন সংকটও এই অবস্থার জন্য দায়ী।
সরকারি উদ্যোগ ও বাজার স্থিতিশীলতার চ্যালেঞ্জ
সরকার ইতোমধ্যে আমদানি শুল্ক কমিয়েছে, কিন্তু বাজারে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়েনি।
বরং কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগ উঠেছে। ব্যবসায়ীরা দাবি করছেন, আমদানিকারক ও মিল মালিকদের সিন্ডিকেটের কারণেই ভোক্তারা ন্যায্যমূল্যে তেল পাচ্ছেন না।
এ অবস্থায় বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারকে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। রমজানের আগেই সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।
এসআর
মন্তব্য করুন: