অতিমুনাফালোভী কিছু ট্রাভেল এজেন্টের লোভের মাশুল গুনছে প্রবাসীসহ সাধারণ উড়োজাহাজ যাত্রীরা।
এই চক্রের সিন্ডিকেটের কবজায় উড়োজাহাজের টিকিট বাণিজ্য। তারা এয়ারলাইনসগুলোর টিকিট আগাম ব্লক করে নিজেদের জিম্মায় রেখে পরে ইচ্ছামতো দাম বাড়াচ্ছে। ফলে বিদেশগামী উড়োজাহাজ যাত্রীদের স্বাভাবিক ভাড়ার তিন গুণ পর্যন্ত বেশি টাকা দিয়ে টিকিট কিনতে হচ্ছে।
যাত্রী, কর্মী ও ট্রাভেল এজেন্টদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।
জানা যায়, ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকার টিকিট তাদের সিন্ডিকেটের কারণে কিনতে হচ্ছে এক লাখ ৯০ হাজার টাকা পর্যন্ত।
বিভিন্ন সূত্র বলছে, মধ্যপ্রাচ্যের এয়ারলাইনস ব্যবসায়ী ও দেশীয় কিছু ট্রাভেল এজেন্সির মধ্যে প্রভাবশালী এক সিন্ডিকেট তৈরি হয়েছে।
তারা বিভিন্ন এজেন্সির চাহিদা না থাকা সত্ত্বেও যাত্রীদের কোনো প্রকার পাসপোর্ট, ভিসা ও ভ্রমণ নথিপত্র ছাড়াই শুধু ই-মেইলের মাধ্যমে কিছু এয়ারলাইনসের বিভিন্ন রুটের গ্রুপ সিট বুকিং করে থাকে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মূলত বিদেশি মধ্যপ্রাচ্যগামী এয়ারলাইনসগুলো ফ্লাইটের তারিখের অনেক আগেই আসন বিক্রি নিশ্চিত করা এবং অধিক মুনাফার জন্যই এই পদ্ধতি অবলম্বন করে রিয়াদ, দাম্মাম, জেদ্দা, ওমান, দোহা, কুয়ালালামপুরসহ বিভিন্ন রুটের সিট ব্লক করে থাকে। মধ্যপ্রাচ্যগামী এয়ারলাইনসগুলো এ ধরনের নাম ছাড়া গ্রুপ বুকিং করে তাদের পছন্দের গুটিকয়েক এজেন্সির মাধ্যমে বাজারে টিকিট বিক্রি করে।
চলতি বছরের গত ২৬ জানুয়ারি উড়োজাহাজের ৬০ হাজার টিকিট সিন্ডিকেট ব্লক করেছে বলে অভিযোগ করে অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশ (আটাব)। এ সময় আটাব বলে, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান পরিবহন খাতে চলমান অন্যতম বড় সমস্যা এয়ার টিকিটের অতিরিক্ত মূল্যবৃদ্ধি।
এই মূল্যবৃদ্ধির নেপথ্যে অন্যতম প্রধান কারণ নামবিহীন গ্রুপ টিকিট বুকিং। কিছু মধ্যপ্রাচ্যগামী এয়ারলাইনস দেশীয় কিছু ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে ৬০ হাজার টিকিট ব্লক করে রেখেছে। এর ফলে টিকিটের মূল্য ২০ থেকে ৫০ শতাংশ, কখনো দু-তিন গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এ বিষয়ে আটাব সভাপতি আব্দুস সালাম আরেফ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যে বিশেষ করে সৌদি আরবে বা মালয়েশিয়ায় যখন কর্মীর সংখ্যা বৃদ্ধি পায় তখন সিন্ডিকেট গ্রুপ টিকিট অর্থাৎ নাম, পাসপোর্ট ও ভিসা ছাড়া এয়ারলাইনসগুলো থেকে টিকিট ব্লক করে রাখে। তখন ফ্লাইটের টিকিট বিক্রি না হলেও ব্লক করার কারণে ভাড়া বেশি হয়ে যায়।
সিন্ডিকেটের বিষয়ে তিনি আরো বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যে যেসব এয়ারলাইনস ফ্লাইট পরিচালনার কাজ করে তারাই হলো সিন্ডিকেট। এই এয়ারলাইনসগুলো চায় বাংলাদেশ থেকে বেশি লাভ করতে।
যেহেতু আমাদের নিয়ন্ত্রক সংস্থা সেভাবে মনিটর করে না বা যতটুকু করে সেটা পর্যাপ্ত নয়, সে কারণে তারা সুযোগ পেয়েছে এবং এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে যত বেশি ব্যবসা করা যায় সেটিই তারা করছে।
বিদেশি এয়ারলাইনসগুলো এখানে জনগণের উপকার করতে আসেনি। তারা আসছে এখান থেকে বেশি অর্থ আয় করতে।
এসআর
মন্তব্য করুন: