শতাধিক পণ্যের ভ্যাট বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সরকার।
গত ৯ জানুয়ারি এনবিআর ভ্যাট বৃদ্ধি করে প্রজ্ঞাপন দেওয়ার পর থেকে শুরু হয় আলোচনা।
গত ৯ জানুয়ারি এনবিআর ভ্যাট বৃদ্ধি করে প্রজ্ঞাপন দেওয়ার পর থেকে শুরু হয় আলোচনা।
জনগণের চাপের মুখে ওষুধ, রেস্তোরাঁ, মুঠোফোন সেবা, ইন্টারনেটের মতো খাতে বাড়তি ভ্যাট প্রত্যাহার করেছে সরবার। তবে ফলমূল, বিস্কুট, টুথপেস্ট, সাবান-শ্যাম্পু থেকে শুরু করে বিভিন্ন পণ্যে বাড়তি ভ্যাটের সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়।
বাংলাদেশের অর্থনীতি যখন আগে থেকেই নানা কারণে চাপের মুখে তখন হঠাৎ করেই অর্থবছরের মাঝামাঝি ভ্যাট বাড়ানোর নজিরবিহীন এই সিদ্ধান্ত মেনে নিচ্ছে না ভোক্তারা। এর ফলে ব্যবসার ওপরও চাপ বাড়লে সেটা অর্থনীতির জন্য ভালো হবে না এমন আলোচনাও হচ্ছে।
সরকার যে ভ্যাট বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে, তাতে রাজস্ব আয় বাড়বে কমবেশি ১২ হাজার কোটি টাকা। রাষ্ট্রপরিচালনা জন্য এই টাকা দরকার সরকারের।
কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, ভ্যাট বাড়িয়ে টাকা সংগ্রহের জন্য সরকার কেন মরিয়া হয়ে উঠলো?
সরকার হন্যে হয়ে টাকা খুঁজছে, কারণ তার টাকার ঘাটতি আছে। সরকারের টাকার ঘাটতির দুটি কারণ রয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা।
প্রথমটি হচ্ছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সরকারি কোষাগারে টাকার যে ঘাটতি এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সেটা উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছে।
দ্বিতীয় হচ্ছে, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান এবং শেখ হাসিনা পরবর্তী দুই মাসে যে অস্থির পরিস্থিতি তাতে করে সরকারের রাজস্ব আদায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এনবিআরের হিসাবে দেখা যায়, ২০২৪ সালের জুলাই থেকে নভেম্বর -এই পাঁচ মাসে সরকার যে রাজস্ব আয় করেছে, সেটা ২০২৩ সালের একই সময়ের তুলনায় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা কম। এই পাঁচ মাসে সরকারের রাজস্ব আদায়ের যে লক্ষমাত্রা ছিলো তার তুলনায় আদায় কম হয়েছে প্রায় ৪২ হাজার কোটি টাকা।
অর্থ বছরের বাকি সময়ে টাকার এই ঘাটতি পূরণ সম্ভব নয়। তাই সহজ সমাধান হিসেবে ভ্যাট বাড়ানোর পথে গেছে সরকার।
তবে এর বাইরেও আরেকটি কারণের কথা বলছেন সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম।
সেটা হচ্ছে বিদেশি ঋণ পরিশোধের চাপ।
তিনি বলেন, "দেখবেন যে ভারতীয় কম্পানি আদানি সরকারের কাছে চিঠি দিয়েছে তাদের ৮৩০ মিলিয়ন ডলারের পাওনা বাকি রয়েছে। কিন্তু এরকম পাওনাদি শুধু ওই বিদ্যুৎ কম্পানি না, যারা আমাদের এখানে গ্যাস এক্সপ্লোরেশন করে তারা এবং বিদেশি টেলিকম কম্পানি রয়েছে তাদেরও বিদেশে টাকা প্রেরণ করতে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। তো এগুলো হিসাব করা হলে দেখা যাবে কয়েক বিলিয়ন ডলার বকেয়া পাওনা রয়ে গেছে যেগুলোর জন্য ডলার দরকার। সুতরাং সে হিসেবে সরকারের আসলে খুব দ্রুতই অর্থের প্রয়োজন।"
সরকার একদিকে ভ্যাট বাড়িয়ে টাকা আদায় করছে, অন্যদিকে নতুন নতুন ব্যয়ের খাত তৈরি করছে। অর্থাৎ টাকার সংকটে ব্যয় কমিয়ে টাকা বাঁচানোর পরিবর্তে সরকার উল্টো টাকা খরচ করছে।
সরকার সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারিদের মহার্ঘ ভাতা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। সূত্র বলছে, এতে সাত হাজার কোটি টাকা খরচ হবে। আবার বিদেশে ৮২টি বাংলাদেশি মিশনে বাংলাদেশি কর্মকর্তাদের বৈদেশিক ভাতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। নিয়ম অনুযায়ী যেটা দিতে হবে বৈদেশিক মুদ্রায়।
ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, "আমাদের কাছে ঠিক বোধগম্য না যে এই মুহূর্তে এতো উচ্চ পরিমাণে মহার্ঘ ভাতা দেয়ার কী প্রয়োজন আছে! সরকার আরও কিছু জায়গায় (খরচ করার) নতুন কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যেগুলো তারা পিছিয়ে দিতে পারে।"
সূত্র : বিবিসি বাংলা
এসআর
মন্তব্য করুন: